পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) প্রথম খণ্ড.pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী শূন্য আকাশের পটে হে প্রকৃতিদেবি কি কবিতা লিখেছ ষে জলন্ত অক্ষরে, যত দিন রবে প্রাণ পড়িয়া পড়িয়া তবু ফুরাবে না পড়া ; মিটিবে না আশ । শত শত গ্রহ তারা তোমার কটাক্ষে কাপি উঠে থরথরি, তোমার নিশ্বাসে ঝটিকা বহিয়া যায় বিশ্বচরাচরে । কালের মহান পক্ষ করিয়া বিস্তার, অনন্ত আকাশে থাকি হে আদি জননি, শাবকের মত এই অসংখ্য জগৎ তোমার পাথার ছায়ে করিছ পালন ! সমস্ত জগৎ যবে আছিল বালক, ছুরস্ত শিশুর মত অনন্ত আকাশে করিত গো ছুটাছুটি না মানি শাসন, স্তনদানে পুষ্ট করি তুমি তাহাঙ্গের অলঙ্ঘ্য সখ্যের ভোরে দিলে গো বাধিয়া । এ দৃঢ় বন্ধন যদি ছিড়ে একবার, সে কি ভয়ানক কাগু বাধে এ জগতে, কক্ষচ্ছিন্ন কোটি কোটি স্থৰ্য্য চন্দ্র তারা অনস্ত আকাশময় বেড়ায় মাতিয়া, মগুলে মগুলে ঠেকি লক্ষ স্থৰ্য্য গ্রহ চূর্ণ চূর্ণ হোয়ে পড়ে হেথায় হোথায় ; এ মহান জগতের ভগ্ন অবশেষ চূর্ণ নক্ষত্রের স্তৃপ, খণ্ড খণ্ড গ্রহ বিশৃঙ্খল হোরে রহে অনস্ত আকাশে ! অনস্ত আকাশ আর অনন্ত সময়, যা ভাবিতে পৃথিবীর কীট মানুষের ক্ষুত্র বুদ্ধি হোয়ে পড়ে ভয়ে সঙ্কুচিত, তাহাই তোমার দেবি সাধের অাবাস । তোমার মুখের পানে চাহিতে হে দেবি