পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) প্রথম খণ্ড.pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কবি-কাহিনী শুনেছি বিলাসন্ধর বিহবল করিয়া হৃদি ডুবাইয়া রাখে সদা বিশ্বতির ঘুমে ! কিন্তু দেবি— কিন্তু দেবি— এত যে পেয়েছি কষ্ট, বিশ্বতি চাই নে তবু বিশ্বতি চাই নে – সে কি ভয়ানক দশা, কল্পনাও শিহুরে গো— স্বগীয় এ হৃদয়ের জীবনে মরণ ! আমার এ মন দেবি হোকৃ মরুভূমি-সম তৃণলতা-জল-শূন্ত জলস্ত প্রাস্তর, তবুও তবুও আমি সহিব তা প্রাণপণে, বহিব তা যত দিন রহিব বাচিয়া, মিটাতে মনের তৃষা ত্রিভুবন পৰ্য্যটিব, হত্যা করিব না তবু হৃদয় আমার । প্রেম ভক্তি স্নেহ আদি মনের দেবত যত ৰতনে রেখেছি আমি মনের মন্দিরে, তাদের করিতে পূজা ক্ষমতা নাইক ব’লে বিসর্জন করিবারে পারিব না অামি । কিন্তু ওগো কলপনা অামার মনের কথা বুঝিতে কে পারিবেক বল দেখি দেবি ? আমার ব্যথার মৰ্ম্ম কারে বুঝাইবে বল— বুঝাইতে না পারিলে বুক যায় ফেটে । যদি কেহ বলে দেবি তোমার কিসের ছুখ, হৃদয়ের বিনিময়ে পেয়েছ হৃদয়, তবে কাল্পনিক দুখে এত কেন ম্রিয়মাণ ? তবে কি বলিয়া আমি দিব গো উত্তর ? উপায় থাকিতে তবু যে সহে বিষাদজালা পৃথিবী তাহারি কষ্টে হয় গো ব্যথিত— আমার এ বিষাদের উপায় নাইক কিছু, কারণ কি তাও দেবি পাই না খুজিয়া । পৃথিবী আমার কষ্ট বুঝক বা না বুঝকৃ, নলিনীরে কি বলিয়া বুঝাইব দেবি ?