পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৭৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় SS এই খোলা দরজাটার কাছে ভিড় করবেন সন্দেহ নেই। তা নিয়ে ফৌজদারি বাধলে আমাকে স্বাদলের লোক বলে স্বপক্ষে সাক্ষী মেনে বসবেন । সেই দুদিনের পূর্বেই নিরুদ্দেশ হওয়া ভালো । এর পরে মন্দরচিত আরো একখানা কাব্যগ্রন্থ বেরবে, তার নাম বিচিত্ৰিতা । সেটা দেখে ভদ্রলোকে এই মনে করে আশ্বস্ত হবে যে, আমি পুনশ্চ প্ৰকৃতিস্থ হয়েছি ।-- খড়দহ, দেওয়ালি, ১৩৩৯ -পরিচয় । বৈশাখ ১৩৪০ “বাসা’ (১৯ অগস্ট ১৯৩২ ৷৷ ৩ ভাদ্র ১৩৩৯) কবিতা রচনার দুই বৎসর পূর্বে কবি বর্লিন হইতে প্ৰতিমা দেবীকে একখানি চিঠি লেখেন । এই চিঠিখানি উক্ত কবিতার প্রাথমিক খসড়া বলা যাইতে 9s --- থেকে থেকে মনে আসচে তোমার সেই স্টুডিয়োর কথাটা । ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে, শালবনের ছায়ায় খোলা জানলার কাছে । বাইরে একটা তালগাছ- খাড়া দাড়িয়ে, তারই পাতাগুলোর কম্পমান ছায়া সঙ্গে নিয়ে রোদন্দুর এসে পড়েছে আমার দেয়ালের উপর- জামের ডালে বসে ঘুঘু ডাকছে সমস্ত দুপুরবেলা ; নদীর ধার দিয়ে একটা ছায়া-বীথি চলে গেছে- কুড়চি ফুলে ছেয়ে গেছে গাছ, বাতাবি নেবুর ফুলের গন্ধে বাতাস ঘন হয়ে উঠেছে, জারুল পলাশ মাদারে চলেছে প্রতিযোগিতা, সজনে ফুলের কুরি দুলছে হাওয়ায় ; অশথগাছের পাতাগুলো ঝিলমিল ঝিলমিল করছে- আমার জানলার কাছ পর্যন্ত উঠেচে চামেলি লতা । নদীতে নেবেচে একটি ছোটাে ঘাট, লাল পাথরে বাধানো, তারই এক পাশে একটি চাপার গাছ। একটির বেশি ঘর নেই । শোবার খাটি দেয়ালের গহবরের মধ্যে ঠেলে দেওয়া যায় । ঘরে একটিমাত্র আছে আরাম-কেদারা- মেঝেতে ঘন লাল রঙের জাজিম পাতা, দেয়াল বসন্তী রঙের, তাতে ঘোর কালো রেখার পাড় আঁকা। ঘরের পুব দিকে একটুখানি বারান্দা, সূর্যোদয়ের আগেই সেইখানে চুপ করে গিয়ে বসব, আর খাবার সময় হলে লীলমণি সেইখানে খাবার এনে দেবে । একজন কেউ থাকবে যার গলা খুব মিষ্টি, যে আপন মনে গান গাইতে ভালোবাসে । পাশের কুটিরে তার বাসা— যখন খুশি সে গান করবে, আমার ঘরের থেকে শুনতে পাব । তার স্বামী ভালোমানুষ এবং বুদ্ধিমান, আমার চিঠিপত্র লিখে দেয়, অবকাশকালে সাহিত্য-আলোচনা করে, এবং ঠাট্টা করলে ঠাট্টা বুঝতে পারে এবং যথোচিত হাসে । নদীর উপরে দুটি সঁাকো থাকবে- নাম দিতে পারব জোড়ার্সাকে- সেই সাকোর দুই প্ৰান্ত বেয়ে, জুই বেল রজনীগন্ধা রক্তকরবী । নদীর মাঝে মাঝে গভীর জল, সেইখানে ভাসছে রাজহাঁস আর ঢালু নদীতটে চরে বেড়াচ্ছে আমার পাটল রঙের গাইগোরু, তার বাছুর নিয়ে । শাক-সব্জির খেত আছে, বিঘে-দুইয়েক জমিতে ধানও কিছু হয় । খাওয়াদাওয়া নিরামিষ, ঘরে-তোলা মাখন দই ছানা ক্ষীর, কুকারে যা রাধা যেতে পারে। তাই যথেষ্টরান্নাঘর নেই। থাক এই পর্যন্ত । বাইরের দিকে চেয়ে মনে পড়ছে আছি বর্লিনে— বড়োলোক সেজে- বড়ো কথা বলতে হবে- বড়ো খ্যাতির বোঝা বয়ে চলতে হবে দিনের পর দিন— জগৎ-জোড়া সব সমস্যা রয়েছে তর্জনী তুলে, তার জবাব চাই । ও দিকে ভারতসাগরের তীরে অপেক্ষা করে আছে বিশ্বভারতী— তার অনেক দাবি, অনেক দায়- ভিক্ষা করতে হবে দেশে দেশান্তরে । অতএব থাক আমার স্টুডিয়ো । কতদিনই বা বঁচিব— ইতিমধ্যে কর্তব্য করতে করতে ঘোরা যাক- রেলে চড়ে, মোটরে চড়ে, জাহাজে চড়ে, ব্যোমযানে চড়ে— সভ্যভব্য হয়ে । অতএব আর সময় নেই । ইতি ১৮ আগষ্ট ১৯৩০ [ ১ ভাদ্র ১৩৩৭] -°डग्नश्Jा ७७ । त्रिंठिं°ख ७ এভাবে ১৩৩৯ ভাদ্রের বিভিন্ন রচনা, সুন্দর/ বিচ্ছেদ (৭। ভাদ্র), নাটক (৯ ভাদ্র), পত্র (১০ ভাদ্র), ফাক (১১ ভাদ্র), এগুলির বিশেষ তুলনাস্থল নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা রবীন্দ্রনাথের যে-সকল পত্র, সেগুলির তারিখ যথাক্রমে ৩২ আষাঢ়, ৮ শ্ৰাবণ, ২৩ শ্রাবণ ও ১৫ শ্রাবণ ১৩৩৬, অপিচ ২৭। চৈত্র ১৩৩৭ । অধিকাংশ পত্র ‘‘পথে ও পথের প্রান্তে” গ্রন্থে সংকলিত আর সবগুলি পাওয়া