পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S\లిన রবীন্দ্র-রচনাবলী গান হায় রে, ওরে যায় না কি জানা ! নয়ন ওরে খুজে বেড়ায়, পায় না ঠিকানা অলখ পথেই যাওয়া-আসা, শুনি চরণধ্বনির ভাষা, গন্ধে শুধু হাওয়ায় হাওয়ায় রইল নিশানা । কেমন ক’রে জানাই তারে, বসে অাছি পথের ধারে । প্রাণে এল সন্ধ্যাবেলা আলোয় ছায়ায় রঙিন ঝ’রে-পড়া বকুলদলে খেলা, বিছায় বিছানা । ক্ষান্তমণি । ওলো ইন্দু, দেখ দেখ খড় খড়ে আরো ফাক হয়ে উঠল যে ! ইন্দু। এবার তুমি যদি গান ধর তা হলে দেয় ক্ষান্তমণি । আর ঠাট্টা করতে হবে না, যাঃ । কমলই বুঝি শব্দভেদী বাণের তীরন্দাজ। বিধাতা লমৃদ্ধ ফাক হয়ে যাবে । তোর কথা শুনে ভেবেছিলুম, এক কি তোদের সকলেরই গলায় বাণ বোঝাই করেছেন । হাতের কাছে এত বিপদ জমা হয়ে আছে, এ তো জানতুম না । ইন্দু। স্বাক্টকর্তা সংকল্প করেছেন পুরুষমেধ যজ্ঞ করতে— তারি সহায়তায় নারীদের ডাক পড়েছে। সবাই ছুটে আসছে, কেউ কণ্ঠ নিয়ে, কেউ কটাক্ষ নিয়ে ; কারো বা কুটিল হাস্য, কারো বা কুঞ্চিত কেশকলাপ ; কারো বা সর্ষের তেল ও লঙ্কার বাটন -যোগে বুক-জালানি রান্না । ক্ষান্তমণি। কিন্তু তোদের সব বাণই কি ঐ একটা খড় খড়ে দিয়ে গলবে নাকি ? ইন্দু। কবির হৃদয়টা দরাজ, বড়ো বোনের পাকা হাত আর ছোটো বোনের র্কাচ হাত কারো লক্ষ্যই ফসকায় না । ক্ষান্তমণি । তা যেন হল, তার পরে অংশ নিয়ে তোদের মামলা বাধবে না ? ইন্দু। তাই তো বলে রেখেছি, আমি দাবি করব না । কমল। এত নিঃস্বার্থ হবার দরকার কী ?