পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীশ্রশ্বরচনাবলী سOb\ لاد বিনোদ । আমি কিরকম চাই জান ? যাকে কিছু বোঝবার জো নেই। যাকে ধরতে গেলে পালিয়ে যায়, পালাতে গেলে যে ধরে টেনে নিয়ে আসে । চন্দ্রকান্ত। বুঝেছি। যে কোনো কালেই পুরোনো হবে না । মনের কথা টেনে বলেছ ভাই ! পাওয়া শক্ত। আমরা ভূক্তভোগী, জানি কিনা, বিয়ে করলেই মেয়েগুলো দুদিনেই বহুকেলে পড়া পুথির মতো হয়ে আসে ; মলাটটা আধখানা ছিড়ে ঢল ঢল। করছে, পাতাগুলো দাগি হয়ে খুলে আসছে, কোথায় সে আটর্সাট বাধুনি, কোথায় সে সোনার জলের ছাপ ! আচ্ছা, সে যেন হল, আর চেহারা কেমন ? বিনোদ । ছিপছিপে, মাটির সঙ্গে অতি অল্পই সম্পর্ক, যেন সঞ্চারিণী পল্পবিনী লতেব । চন্দ্রকাস্ত। আর বেশি বলতে হবে না, বুঝে নিয়েছি। তুমি চাও পদ্যের মতো চোদটি অক্ষরে বাধাছাদা, চলতে ফিরতে ছন্দটি রেখে চলে ; এ দিকে মল্লিনাথ, ভরত শিরোমণি, জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন তার টিকে-ভাষ্য করে থই পায় না। বুঝেছ বিনদা, চাইলেই তো পাওয়া যায় না— বিনোদ । কেন, তোমার কপালে তো মন্দ জোটে নি । চন্দ্রকান্ত । মন্দ বলতে সাহস করি নে, কিন্তু ভাই, সে গষ্ঠ, তাতে ছাদ নেই, ঢ়িল কলমে লেখা ৷ গদাই । আর ছাদে কাজ নেই ভাই ! আবার তোমার কিরকম ছাদ সেটাও তো দেখতে হবে । চন্দ্রকান্ত । তোরা বুঝবি নে, গদাই, ভিতরে গীতগোবিন্দের অল্প একটু আমেজ আছে ; সুযোগ ঘটলে ললিতলবঙ্গলতার সঙ্গে ছন্দের মিল হতেও পারত। চাদের আলোয় মুখের দিকে চেয়ে বেলফুলের মালা হাতে প্রেয়সী যদি বলত— জনম অবধি হাম রূপ নেহারমু নয়ন না তিরপিত ভেল নেহাত অসহ হত না । প্রেয়সী সর্বদা এসেও থাকেন, কিছুই যে বলেন না এত বড়ো বদনাম দিতে পারব না। কিন্তু বাক্যগুলো, বিশেষত তার স্বরটা এমনটি হয় না— গৌড়জন ষাহে আনন্দে করিবে পান স্বধা নিরবধি । গদাই। দেখো চন্দরদী, বিয়ে করবার প্রসঙ্গে পছন্দ করার কথাটা একেবারেই খাটে না । বিয়েটা হল মনোথিইজ ম আর পছন্দটা হল পলিথিইজ,ম । দুটোর থিওলজি একেবারে উলটো । বিয়ের ডেফিনিশনই হচ্ছে জন্মের মতো পছন্দ-বায়ুটাকে