পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sసి తి রবীন্দ্র-রচনাবলী কমল । ওগো শিকারী, তুমি আর কথা কোয়ে না। তোমার নিজের কবিটির কাহিনী ভুলে গেছ বুঝি ? একবার তাকে হল অস্বীকার, আবার হল স্বীকার— মামুষটাকে কি কম নাকাল করা হয়েছে ! ইন্দু। আমার অকবিটিকে আমি কবি বানিয়েছি, এর বেশি কিছু না— কিন্তু তোমার মানুষটি আদিতে ছিলেন কবি, মধ্যে হলেন অকবি, আবার অস্তে উলটে রথে ফিরছেন কবিত্বে, এ কী কম কথা ! আমাদের কমল অধিকারীর এই পালাটির নাম দিয়েছি কবি-জগন্নাথের রথযাত্রা । মন্দির থেকে বেরোনো, আবার মন্দিরে ফিরিয়ে আনা । দু দিন বাদেই দেখবি, থিয়েটার-ওয়ালারা ঝুলোকুলি করবে এটা অভিনয় করবার জন্যে — লেখা হল কবিবর ? বিনোদ । হয়েছে । [ ইন্দু ও কমলে মিলিয়া নোটবই লইয়া মনে মনে পাঠ ইন্দু। পাকা আম নিঙড়োলে রসের সঙ্গে আঁটি বেরিয়ে আসে, এও যে তাই । বিনোদ । অর্থাং ? ইন্দু। অর্থাৎ, এ তো শুধু কাব্যরস নয়, এ ষে রসতত্ত্ব। দিদি, তোমার এ কবিটি যে-সে কবি নয়— কাব্যকুঞ্জবনে এই মানুষটি নারিকেলজাতীয়। তোমার ভাগ্যে শাসও জুটবে, রসও জুটবে ! কমল। আর তোর ভাগ্যে ইন্দু? ३न्नू। শুধু ছোবড়া । বিনোদ । ছিছি ভাই, আমার মধ্যে এমন রসের সংকীর্ণতা দেখলে কোথায় ? ইন্দু। কবিবর, সংকীর্ণতার দর বেশি, ঔদার্যেই সস্তা করে। হীরের টুকরো সংকীর্ণ, পাথরের চাই মস্ত । আমরা চাই, তুমি একলা আমার দিদির কণ্ঠহারে একটিমাত্র মধ্যমণি হয়ে থাকো– সরকারি হোটেলের রান্নাঘরে মস্ত শিলনোড়ার কাজে বিশ্বজনীন হয়ে না ওঠে । বিনোদ । তাই সই, কিন্তু ওই ষে গানটা তৈরি করলেম ওটাকে স্বরের হারে গেথে একলা তোমার কণ্ঠে কি স্থান দেবে না ? ইন্দু। আচ্ছ, আজ তোমার গুড কনডাক্টের প্রাইজ স্বরূপে এই অনুগ্রহ করতে রাজি আছি । কোন স্বর তোমার পছন্দ বলে । বিনোদ । তোমার পছন্দেই আমার পছন্দ । ইন্দু। আচ্ছা, সখা, তবে প্রবণ করে । গান লুকালে বলেই খুজে বাহির-করা । ধরা যদি দিতে তবে যেত না ধরা ।