পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ إخراج অনাথবন্ধু অবজ্ঞাভরে হাসিয়া কহিলেন, “পরীক্ষা দিলেই কি চতুভূজ হয় না কি। আমাদের কেদারও তো পরীক্ষায় পাস হইয়াছে।” বিন্ধ্যবাসিনী সান্থন লাভ করিলেন। দেশের অনেক গো-গর্দভ ষে-পরীক্ষায় পাস করিতেছে সে-পরীক্ষা দিয়া অনাথবন্ধুর গৌরব কী আর বাড়িবে ! প্রতিবেশিনী কমলা তাহার বাল্যসখী বিন্দিকে আনন্দ-সহকারে খবর দিতে আসিল যে, তাহার ভাই রমেশ এবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া জলপানি পাইতেছে। শুনিয়া বিন্ধ্যবাসিনী অকারণে মনে করিল, কমলার এই আনন্দ বিশুদ্ধ আনন্দ নহে, ইহার মধ্যে তাহার স্বামীর প্রতি কিঞ্চিং গৃঢ় শ্লেষ আছে । এইজন্য সখীর উল্লাসে উল্লাস প্রকাশ না করিয়া বরং গায়ে পড়িয়া কিঞ্চিং ঝগড়ার স্বরে শুনাইয়া দিল যে, এল. এ. পরীক্ষা একটা পরীক্ষার মধ্যেই গণ্য নহে : এমন-কি, বিলাতের কোনো কলেজে বি. এ.র নীচে পরীক্ষাই নাই। বলা বাহুল্য, এসমস্ত সংবাদ এবং যুক্তি বিন্ধ্য স্বামীর নিকট হইতে সংগ্ৰহ করিয়াছে। কমলা মুখসংবাদ দিতে আসিয়া সহসা পরমপ্রিয়তমা প্রাণসখীর নিকট হইতে এরূপ আঘাত পাইয়া প্রথমটা কিছু বিস্মিত হইল। কিন্তু, সেও না কি স্ত্রীজাতীয় মনুষ্য, এই জন্য মুহূর্তকালের মধ্যেই বিন্ধ্যবাসিনীর মনের ভাব বুঝিতে পারিল এবং ভ্রাতার অপমানে তৎক্ষণাৎ তাহারও রসনাগ্রে একবিন্দু তীব্র বিষ সঞ্চারিত হইল ; সে বলিল, “আমরা তো, ভাই, বিলাতও যাই নাই, সাহেব স্বামীকেও বিবাহ করি নাই, অত খবর কোথায় পাইব। মূৰ্খ মেয়েমানুষ, মোটামুটি এই বুঝি যে, বাঙালির ছেলেকে কলেজে এল. এ. দিতে হয় ; তাও তো, ভাই, সকলে পারে না ।” অত্যন্ত নিরীহ সুমিষ্ট এবং বন্ধুভাবে এই কথাগুলি বলিয়া কমলা চলিয়া আসিল, কলহবিমুখ বিন্ধ্য নিরুত্তরে সহ করিল এবং ঘরে প্রবেশ করিয়া নীরবে কাদিতে লাগিল । অল্পকালের মধ্যে আর-একটি ঘটনা ঘটিল। একটি দূরস্থ ধনী কুটুম্ব কিয়ংকালের জন্ত কলিকাতায় আসিয়া বিন্ধ্যবাসিনীর পিত্রালয়ে আশ্রয় গ্রহণ করিল। তদুপলক্ষে তাহার পিতা রাজকুমার বাবুর বাড়িতে বিশেষ একটা সমারোহ পড়িয়া গেল। জামাইবাবু বাহিরের যে বড়ে বৈঠকখানাট অধিকার করিয়া থাকিতেন নব-অভ্যাগতদের বিশেষ সমাদরের জন্য সেই ঘরটি ছাড়িয়া দিয়া তাহাকে মামাবাবুর ঘরে কিছুদিনের জন্য আশ্রয় লইতে অনুরোধ করা হইল । 颱 এই ঘটনায় অনাথবন্ধুর অভিমান উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিল। প্রথমত, স্ত্রীর নিকটে গিয়া তাহার পিতৃনিন্দ করিয়া তাহাকে কাদাইয়া দিয়া শ্বশুরের উপর প্রতিশোধ তুলিলেন। তাহার পরে অনাহার প্রভৃতি অন্যান্ত প্রবল উপায়ে অভিমান প্রকাশের