পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१ध्र९७झ् ૨૮૭ প্রতিদিন আহারের সময় তাহার বাপ তাহাকে সম্মুখে না লইয়া খাইতে বসিতেন না ; মনে পড়িল, তাহার সর্বকনিষ্ঠ ভাইটি ইস্কুল হইতে আসিয়া তাহার দিদির হাতে থাইতে ভালোবাসে ; মনে পড়িল, সকালে সে তাহার মায়ের সহিত পান সাজিতে বসিত এবং বিকালে মা তাহার চুল র্বাধিয়া দিতেন। ঘরের প্রত্যেক ক্ষুত্র কোণ এবং দিনের প্রত্যেক ক্ষুদ্র কাজটি তাহার মনের সম্মুখে জাজল্যমান হইয়া উঠিতে লাগিল । তখন তাহার নিভৃত জীবন এবং ক্ষুদ্র সংসারটিকেই স্বর্গ বলিয়া মনে হইল। সেই পানলাজী, চুলবাধা, পিতার আহারস্থলে পাখা-কর, ছুটির দিনে মধ্যাহনিত্রীর সময় তাহার পাকাচুল তুলিয়া দেওয়া, ভাইদের দৌরাত্ম্য সহ করা— এ সমস্তই তাহার কাছে পরম শাস্তিপূর্ণ দুর্লভ স্থখের মতো বোধ হইতে লাগিল ; বুঝিতে পারিল না, এসব থাকিতে সংসারে আর কোন স্বথের আবশ্বক আছে। মনে হইতে লাগিল, পৃথিবীতে ঘরে ঘরে সমস্ত কুলকন্যারা এখন গভীর স্বযুপ্তিতে নিমগ্ন। সেই আপনার ঘরে আপনার শয্যাটির মধ্যে নিস্তন্ধ রাত্রের নিশ্চিন্ত নিদ্রা যে কত মুখের, তাহা ইতিপূর্বে কেন সে বুঝিতে পারে নাই। ঘরের মেয়েরা কাল সকালবেলায় ঘরের মধ্যে জাগিয়া উঠিবে, নিঃসংকোচ নিত্যকর্মের মধ্যে প্রবৃত্ত হইবে, আর গৃহচ্যুত হেমশশীর এই নিদ্রাহীন রাত্রি কোনখানে গিয়া প্রভাত হইবে এবং সেই নিরানন্দ প্রভাতে তাহাদের সেই গলির ধারের ছোটোখাটো ঘরকন্নাটির উপর যখন সকালবেলাকার চিরপরিচিত শাস্তিময় হাস্যপূর্ণ রৌদ্রাট আসিয়া পতিত হইবে তখন সেখানে সহসা কী লজ্জা প্রকাশিত হইয়া পড়িবে— কী লাঞ্ছনা, কী হাহাকার জাগ্রত হইয়া উঠিবে ! হেম হৃদয় ৰিদীর্ণ করিয়া কাদিয়া মরিতে লাগিল ; সকরুণ অনুনয়সহকারে বলিতে লাগিল, “এথনো রাত আছে । আমার মা, আমার দুটি ভাই, এখনো জাগে নাই ; এখনো আমাকে ফিরাইয়া রাখিয়া আইল ।” কিন্তু, তাহার দেবতা কর্ণপাত করিল না ; এক ইহার অনতিকাল পরেই দেবতা এবং স্বৰ্গ পুনশ্চ আর-একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর জীর্ণরথে চড়িয়া আর-এক পথে প্রস্থান করিলেন– রমণী আকণ্ঠ পঙ্কের মধ্যে নিমজ্জিত হইয়া ज्ञश्लि ।