পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


❖ ፃፋይ রবীন্দ্র-রচনাবলী স্বদেশযাত্রার আগের দিন সকালবেলায় সে জিনিসটা খুজিয়া পাওয়া গেল না । কিরণ হাসিয়া কহিলেন, “ঠাকুরপো, তোমার রাজহংস তোমার দময়ন্তীর অন্বেষণে উড়িয়াছে।” 聽 to: কিন্তু সতীশ অগ্নিশৰ্মা হইয়া উঠিল। নীলকান্তই ষে সেটা চুরি করিয়াছে সে-বিষয়ে তাহার সন্দেহমাত্র রহিল না— গতকল্য সন্ধ্যার সময় তাহাকে সতীশের ঘরের কাছে যুর ঘুর করিতে দেখিয়াছে, এমন সাক্ষীও পাওয়া গেল। সতীশের সম্মুখে অপরাধী আনীত হইল। সেখানে কিরণও উপস্থিত ছিলেন। সতীশ একেবারেই তাহাকে বলিয়া উঠিলেন, “তুই আমার দোয়াত চুরি করে কোথায় রেখেছিস, এনে দে।” নীলকান্ত নানা অপরাধে এবং বিনা অপরাধেও শরতের কাছে অনেক মার থাইয়াছে এবং বরাবর প্রফুল্লচিত্তে তাহা বহন করিয়াছে। কিন্তু কিরণের সম্মুখে যখন তাহার নামে দোয়াত চুরির অপবাদ আসিল, তখন তাহার বড়ো বড়ো দুই চোখ আগুনের মতো জলিতে লাগিল ; তাহার বুকের কাছটা ফুলিয়া কণ্ঠের কাছে ঠেলিয়া উঠিল ; সতীশ আর একটা কথা বলিলেই সে তাহার দুই হাতের দশ নখ লইয়া ক্রুদ্ধ বিড়ালশাবকের মতো সতীশের উপর গিয়া পড়িত। তখন কিরণ তাহাকে পাশের ঘরে ডাকিয়া লইয়া মুদুমিষ্টস্বরে বলিলেন, “নীলু, যদি সেই দোয়াতটা নিয়ে থাকিস আমাকে আস্তে আস্তে দিয়ে যা, তোকে কেউ কিছু বলবে না ।” তখন নীলকাস্তের চোখ ফাটিয়া টস টস করিয়া জল পড়িতে লাগিল, অবশেষে সে মুখ ঢাকিয়া কাদিতে লাগিল । কিরণ বাহিরে আসিয়া বলিলেন, “নীলকান্ত কখনোই চুরি করে নি।” শরৎ এবং সতীশ উভয়েই বলিতে লাগিলেন, “নিশ্চয়, নীলকান্ত ছাড়া আর কেহই চুরি করে নি।” কিরণ সবলে বলিলেন, "কখনোই না।” শরৎ নীলকাস্তকে ডাকিয়া সওয়াল করিতে ইচ্ছা করিলেন, কিরণ বলিলেন, “না, উহাকে এই চুরি সম্বন্ধে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করিতে পরিবে না।” সতীশ কহিলেন, “উহার ঘর এবং বাক্স খুজিয়া দেখা উচিত।” কিরণ বলিলেন, “তাহা যদি কর, তাহা হইলে তোমার সঙ্গে আমার জন্মশোধ জাড়ি হইবে। নির্দোষীর প্রতি কোনোরূপ সন্দেহ প্রকাশ করিতে পাইবে না।” : বলিতে বলিতে র্তাহার চোখের পাতা দুই ফোটা জলে ভিজিয়া উঠিল। তাহার