পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


o রবীন্দ্র-রচনাবলী צס\ ফুল ফুটে রয়েছে। ভূ ইচাপার মতো এরাই দেশের সমস্ত— আর কিছু চোখে । পড়ে না । 頓 লোকের কাছে শুনতে পাই এখানকার পুরুষেরা অলস ও আরামপ্রিয়, অন্ত দেশের পুরুষের কাজ প্রায় সমস্তই এখানে মেয়েরা করে থাকে। হঠাৎ মনে আসে, এটা বুঝি মেয়েদের উপরে জুলুম করা হয়েছে। কিন্তু, ফলে তো তার উলটোই দেখতে পাচ্ছি— এই কাজকর্মের হিল্লোলে মেয়ের আরো যেন বেশি করে বিকশিত হয়ে উঠেছে। কেবল বাইরে বেরতে পারাই ষে মুক্তি তা নয়, অবাধে কাজ করতে পাওয়া মানুষের পক্ষে তার চেয়ে বড়ো মুক্তি। পরাধীনতাই সব চেয়ে বড়ো বন্ধন নয়, কাজের সংকীর্ণতাই হচ্ছে সব চেয়ে কঠোর খাচা । এখানকার মেয়েরা সেই খাচা থেকে ছাড়া পেয়ে এমন পূর্ণতা এবং আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তারা নিজের অস্তিত্ব নিয়ে নিজের কাছে সংকুচিত হয়ে নেই ; রমণীর লাবণ্যে যেমন তারা প্রেয়সী, শক্তির মুক্তিগৌরবে তেমনি তারা মহীয়সী । কাজেই যে মেয়েদের যথার্থ শ্ৰী দেয়, সাওতাল মেয়েদের দেখে তা আমি প্রথম বুঝতে পেরেছিলুম। তারা কঠোর পরিশ্রম করে, কিন্তু কারিগর যেমন কঠিন আঘাতে মূর্তিটিকে স্বব্যক্ত করে তোলে তেমনি এই পরিশ্রমের আঘাতেই এই সাওতাল মেয়েদের দেহ এমন নিটোল, এখন স্বব্যক্ত হয়ে ওঠে ; তাদের সকল প্রকার গতিভঙ্গিতে এমন একটা মুক্তির মহিমা প্রকাশ পায়। কবি কীটস্ বলেছেন, সত্যই সুন্দর। অর্থাৎ, সত্যের বাধামুক্ত স্বসম্পূর্ণতাতেই সৌন্দর্য । সত্য মুক্তি লাভ করলে আপনিই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায়। প্রকাশের পূর্ণতাই সৌন্দর্য, এই কথাটাই আমি উপনিষদের এই বাণীতে অনুভব করি— আনন্দরূপমমৃতং যদবিভাতি ; অনস্তস্বরূপ যেখানে প্রকাশ পাচ্ছেন, সেইখানেই তার অমৃতরূপ, আনন্দরূপ। মানুষ ভয়ে লোভে ঈর্ষায় মূঢ়তায় প্রয়োজনের সংকীর্ণতায় এই প্রকাশকে আচ্ছন্ন করে, বিকৃত করে ; এবং সেই বিকৃতিকেই অনেকসময় বড়ো নাম দিয়ে বিশেষ ভাবে আদর করে থাকে। তোসামারু জাহাজ ২৭ বৈশাখ ১৩২৩ (? ২৯ বৈশাখ। বিকেলের দিকে যখন পিনাঙের বন্দরে ঢুকছি, আমাদের সঙ্গে ষে-বালকটি এসেছে, তার নাম মুকুল, সে বলে উঠল, “ইস্কুলে একদিন পিনাঙ সিঙাপুর মুখস্ত করে মরেছি,এ সেই পিনাঙ।” তখন আমার মনে হল,ইস্কুলের ম্যাপে পিনাঙ দেখা