পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


శ్రీ 8 রবীন্দ্র-রচনাবলী তার ঘোমটা খুলে দাড়ায়, তার বাণী নানা স্বরে জেগে ওঠে ; সন্ধ্যায় স্বৰ্গলোকের যবনিকা উঠে যায়, এবং জ্যলোক আপন জ্যোতি-রোমাঞ্চিত নিশকতার দ্বারা পৃথিবীর সম্ভাষণে উত্তর দেয়। স্বর্গমর্তের এই মুখোমুখি আলাপ যে কত গম্ভীর এবং কত মহীয়ান, এই আকাশ ও সমুদ্রের মাঝখানে দাড়িয়ে তা আমরা বুঝতে পারি। দিগস্ত থেকে দেখতে পাই, মেঘগুলো নানা ভঙ্গিতে আকাশে উঠে চলেছে, যেন স্বষ্টিকর্তার আঙিনার আকার-ফোয়ায়ার মুখ খুলে গেছে। বস্তু প্রায় কিছুই নেই, কেবল আকৃতি, কোনোটার সঙ্গে কোনোটার মিল নেই। নানা রকমের আকার— কেবল সোজা লাইন নেই। সোজা লাইনটা মানুষের হাতের কাজের । তার ঘরের দেওয়ালে, তার কারখানাঘরের চিমনিতে মানুষের জয়স্তম্ভ একেবারে সোজা খাড়া । বঁাকা রেখা জীবনের রেখা, মাহুষ সহজে তাকে আয়ত্ত করতে পারে না । সোজা রেখা জড় রেখা, সে সহজেই মানুষের শাসন মানে ; সে মানুষের বোঝা বয়, মানুষের অত্যাচার সয় । যেমন আকৃতির হরির লুঠ, তেমনি রঙের। রঙ যে কত রকম হতে পারে, তার সীমা নেই। রঙের তান উঠছে, তানের উপর তান ; তাদের মিলও যেমন, তাদের অমিলও তেমনি ; তারা বিরুদ্ধ নয়, অথচ বিচিত্র। রঙের সমারোহেও যেমন প্রকৃতির বিলাস, রঙের শাস্তিতেও তেমনি। স্বর্যাস্তের মুহূর্তে পশ্চিম আকাশ যেখানে রঙের ঐশ্বর্য পাগলের মতো দুই হাতে বিনা প্রয়োজনে ছড়িয়ে দিচ্ছে সেও যেমন আশ্চর্য, পূর্ব আকাশে যেখানে শান্তি এবং সংষম, সেখানেও রঙের পেলবতা, কোমলতা, অপরিমেয় গভীরতা তেমনি আশ্চর্য । প্রকৃতির হাতে অপর্যাপ্তও যেমন মহৎ হতে পারে, পর্যাপ্তও তেমনি । সূর্যাস্তে স্বর্যোদয়ে প্রকৃতি আপনার ডাইনে বঁীয়ে একই কালে সেটা দেখিয়ে দেয় ; তার খেয়াল আর ধ্রুপদ একই সঙ্গে বাজতে থাকে, অথচ কেউ কারো মহিমাকে আঘাত করে না । তার পরে, রঙের আভায় আভায় জল যে কত বিচিত্র কথাই বলতে পারে তা কেমন করে বর্ণনা করব । সে তার জলতরঙ্গে রঙের যে গং বাজাতে থাকে, তাতে স্বরের চেয়ে শ্রীতি অসংখ্য । আকাশ যে-সময়ে তার প্রশান্ত স্তব্ধতার উপর রঙের মহতোমহীয়ানকে দেখায় সমুদ্র সেইসময় তার ছোটো ছোটো লহরীর কম্পনে রঙের অণেরণীয়ানকে দেখাতে থাকে, তখন আশ্চর্যের অস্ত পাওয়া যায় না। সমুদ্র-আকাশের গীতিনাট্যলীলায় রুত্রের প্রকাশ কী রকম দেখা গেছে, সে পূর্বেই বলেছি। আবার কালও তিনি তার ডমরু বাজিয়ে অট্টহাস্তে আর এক ভঙ্গিতে দেখা দিয়ে গেলেন। সকালে আকাশ জুড়ে নীল মেঘ এবং ধোয়ালো মেঘ স্তরে স্তরে পাকিয়ে