পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१७r রবীন্দ্র-রচনাবলী মনে ছবি আসে—ৰিকমিকি বেলা হল, বাগানের ঘাটে গা ধুয়েছ তাড়াতাড়ি ; কচি মুখখানি, বয়স তখন ষোলো ; তস্থ দেহখানি ঘেরিয়াছে ডুরে শাড়ি । কুকুমফোটা ভুরুসংগমে কিৰা, শ্বেতকরবীর গুচ্ছ কর্ণমূলে ; পিছন হইতে দেখিছু কোমল গ্রীবা লোভন হয়েছে রেশমচিকন চুলে। তাম্রথালায় গোড়ে মালাখানি গেথে সিক্ত রুমালে যত্নে রেখেছ ঢাকি ; ছায়া-হেলা ছাদে মাদুর দিয়েছ পেতে— কার কথা ভেবে বসে আছ জানি না কি ! আজি এই চিঠি লিখিছে তো সেই কবি ; গোধূলির ছায়া ঘনায় বিজন ঘরে, দেয়ালে ঝুলিছে সেদিনের ছায়াছবি— শব্দটি নেই, ঘড়ি টিক্‌টিক্‌ করে । ওই তো তোমার হিসাবের ছেড়া পাতা, দেরাজের কোণে পড়ে আছে আধুলিটি । কতদিন হল গিয়েছ, ভাবিব না তা, শুধু রচি বসে নিমন্ত্রণের চিঠি । মনে আসে, তুমি পুব-জানালার ধারে পশমের গুটি কোলে নিয়ে আছ বসে ; উৎসুক চোখে বুঝি আশা কর কারে, আলগা আঁচল মাটিতে পড়েছে খসে । অর্ধেক ছাদে রৌদ্র নেমেছে বেঁকে, বাকি অর্ধেক ছায়াখানি দিয়ে ছাওয়া ; পাচিলের গায়ে চীনের টবের থেকে চামেলি ফুলের গন্ধ আনিছে হাওয়া । এ চিঠির নেই জবাব দেবার দায়, আপাতত এটা দেরাজে দিলেম রেখে ।