পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাত্রী \ף"לס জন্তে মন্ত একটা অগোচরতার ব্যবস্থা আছে। সে আপনার এতখানি বাকি রেখেছে বা পুরুষ আপনার মন দিয়ে পুরিয়ে নিতে পারে। সে আপনার খাওয়া-শোওয়া, চাল-চলন, বাসনা-সাধনা, সমস্ত থেকেই অতিবাস্তবের প্রত্যক্ষতা এতটা পরিমাণে ঢাকা দেয় যাতে পুরুষের ভাবের মধ্যে তার ছবি সম্পূর্ণ হয়ে উঠতে বাধা না পায়। মেয়েদের সঙ্গে পুরুষের ব্যবহারে সম্পূর্ণ এর উলটো দিকটাও দেখা যায়। পুরুষ কখনো কখনো এমন কাও করে যেন নারীর মধ্যে অনির্বচনীয়তার কোনো আভাস নেই, যেন তার মাটির প্রদীপে কোনো আলোই জলে নি ; তখন লুব্ধ দাত দিয়ে তাকে সে আখের মতো চিবিয়ে আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেয়। সাত্ত্বিকের ঠিক উলটোপিঠেই থাকে তামসিক, পূর্ণিমারই অন্ত পারে অমাবস্তা। রাস্তার এ দিকটাতে যে সত্য থাকে ঠিক তার সামনের দিকেই তার বিপরীতের বাস। ফেউ সাক্ষ্য দেয় বাঘেরই অস্তিত্বের । সেই একই কারণে মেয়ে সংসারস্থিতির লক্ষ্মী, আবার সংসার ছারখার করবার প্রলয়ংকরীও তার মতো কেউ নেই। যা হোক, এটা দেখা যাচ্ছে, সর্বত্রই সর্বকালেই মেয়ে নিজের চার দিকেই একটা বিচিত্র চিত্ৰখচিত বেড়ার দূরত্ব তৈরি করে রেখেছে। দুর্গমকে পার হবার জন্তে পুরুষের যে স্বাভাবিক অধ্যবসায় আছে সেইটেকে যতটা পারে সে জাগরক করে রাখে। পড়ে-পাওয়া জিনিস মূল্যবান হলেও তাতে পুরুষের তৃপ্তি নেই ; যাকে সে জয় করে পায় তাকেই সে যথার্থ পায় বলে জানে ; কেননা, জয় করে পাওয়া হচ্ছে মন দিয়ে পাওয়া। এই জন্তে অনেক ছল-যুদ্ধের আয়োজনে মেয়েদের সময় কাটে । নীতিনিপুণ বলে বসবে, এই মায়া তো ভালো নয়। পুরুষ নিজেই চিরকাল ধরে দাবি করলে এই মায়াকে ; এই মায়াস্থষ্টির বড়ো বড়ো উপকরণ সে জুগিয়ে দিলে নিজের কল্লরাজ্য থেকে ; কবিরা চিত্রীরা মিলে নারীর চার দিকে রঙবেরঙের মায়ামগুল আপন ইচ্ছায় বানিয়ে দিলে— অবশেষে এই মায়ার কাছে পরাভবশক্ষায় জন্ত সাধুসঙ্গন মেয়েজাতকে মায়াবিনী বলে গাল দিতে লেগেছে ; তার মায়াদুর্গের উপরে বহুকাল থেকে তারা নীরস শ্লোকের শতন্ত্রী বর্ষণ করছে, কোথাও দাগ পড়ছে না। যারা বাস্তবের উপাসক তারা অনেকে বলে, মেয়েরা অবাস্তবের কুয়াশা দিয়ে নিজেকে ঢেকে ফেলেছে— এ-সমস্তর ভিতর থেকে একেবারে খাটি সত্য মেয়েটিকে উদ্ধার করা চাই। তাদের মতে, সাহিত্যে শিল্পে সব জায়গাতেই এই অবাস্তব মেয়ের ভূতের উপদ্ৰব অত্যন্ত বেশি। এরা মনে করে, মায়া থেকে ছাড়িয়ে নিলেই বাস্তব সত্যকে পাওয়া যাবে। কিন্তু, বাস্তব সত্য বলে কোনো জিনিস কি স্বষ্টিতে আছে। সে সত্য যদি বা