পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৪১২ রবীন্দ্র-রচনাবলী অবস্থায় যখন পেটের জালায় চোখে জল আসে তখন যদি কর্তা রাগ করে বলেন তবে কি চুলোতে আগুন জ্বালব না”, ভয়ে ভয়ে বলি, “জালবে বই কি, কিন্তু ওটা-ষে চিতার আগুন হয়ে উঠল।” ষে-ছঃখের কথাটা বলছি এটা জগৎ জুড়ে আজ ছড়িয়ে পড়েছে ; আজ মুনফার আড়ালে মাছুষের জ্যোতির্ময় সত্য রাহুগ্রস্ত। এইজন্যেই মানুষের প্রতি কঠিন ব্যবহার করা, তাকে বঞ্চনা করা, এত সহজ হল। তাই পাশ্চাত্যে পলিটিক্সই মানুষের সকল চেষ্টার সর্বোচ্চ চূড়া দখল করে বসেছে। অর্থাৎ, মাহুষের ফুলে-ওঠা পকেটের তলায় মানুষের চুপসে-যাওয়া হৃদয় পড়েছে চাপা। সর্বভূক পেটুকতার এমন বিষ্কৃত আয়োজন পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো দিন এমন কুৎসিত আকারে দেখা দেয় নি। 히 আমাদের রিপু সত্যের সম্পূর্ণ স্মৃতিকে আচ্ছন্ন করে। কামে আমরা মাংসই দেখি, আত্মাকে দেখি নে ; লোভে আমরা বস্তুই দেখি, মানুষকে দেখি নে ; অহংকারে আমরা আপনাকেই দেখি, অন্তকে দেখি নে। একটা রিপু আছে যা এদের মতো উগ্র নয়, যা ফাকা। তাকে বলে মোহ ; সে হচ্ছে জড়তা, অসাড়তা । আমাদের চৈতন্তের আলো স্নান করে দিয়ে সে সত্যকে আবৃত করে। সে বিঘ্ন নয়, সে আবরণ । অভ্যাস অনেক সময় সেই মোহরূপে আমাদের মনকে আবিষ্ট করে। 萨 কুয়াশায় পৃথিবীর বস্তুকে নষ্ট করে না, তার আকাশকে লুপ্ত করে। অসীমকে অগোচর করে দেয়। অভ্যাসের মোহ মনের সেই কুয়াশা। অনির্বচনীয়কে সে আড়াল করে, বিস্ময়রসকে সে শুকিয়ে ফেলে। তাতে সত্য পদার্থের গুরুত্ব কমে না, তার গৌরব কমে যায়। আমাদের মন তখন সত্যের অভ্যর্থনা করতে পারে না । বিস্ময় হচ্ছে সত্যের অভ্যর্থনা ৷ 劇 ডাক্তার বলে, প্রতিদিন একই অভ্যস্ত খাওয়া পরিপাকের পক্ষে অমুকুল নয়। ভোজ্য সম্বন্ধে রসনার বিস্ময় না থাকলে দেহ তাকে গ্রহণ করতে আলস্ত করে। শিশুছাত্রদের একই ক্লাসে একই সময়ে একই বিষয় শিক্ষার পুনরাবৃত্তি করানোতেই তাদের শিক্ষার আগ্রহ ঘুচিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণের স্বভাবই চির-উংস্থক। প্রকৃতি তাকে ক্ষণে ক্ষণে আকস্মিকের স্পর্শে চঞ্চল করে রাখে। এমন-কি, এই আকস্মিক যদি দুঃখ আকারেও আসে তাতেও চিত্তের বড়ো রকমের উদবোধন ঘটে। সীমার অতীত বা আকস্মিক হচ্ছে তারই স্থত ; জভাবনীয়ের বার্তা নিয়ে সে আসে, চেতনাকে জড়ত্ব থেকে মুক্তি দেয়।