পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शांजौ 8›ዓ আমার যথেষ্ট পুরস্কার মেলে। কিন্তু যখন ক্লাস্তি আসে, যখন পথ ও পাথেয় দুই-ই বায় কমে অথচ সামনে পথটা দেখতে পাই স্বদীর্ঘ, তখন ছেলেবেলা থেকে যে-ধর বঁাধবার সময় পাই নি সেই ঘরের কথা মন জিজ্ঞাসা করতে থাকে। তখনই আকাশের তারা ছেড়ে দ্বীপের আলোর দিকে চোখ পড়ে। জীবলোকে ছোটাে ছোটাে মাধুরীর দৃপ্ত বা তীরের থেকে দেখা দিয়ে সরে সরে গিয়েছে, চোখের উপরকার আলো মান হয়ে এলে সেই অন্ধকারে তাদের ছবি ফুটে ওঠে ; তখন বুঝতে পারি, সেই-সব ক্ষণিকের দেখা প্রত্যেকেই মনের মধ্যে কিছু-না-কিছু ডাক দিয়ে গেছে। তখন মনে হয়, বড়ো বড়ো কীতি গড়ে তোলাই-ষে বড়ো কথা তা নয়, পৃথিবীতে যে-প্রাণের যজ্ঞ সম্পন্ন করবার জন্তে নিমন্ত্রণ পেয়েছি তাতে উৎসবের ছোটো পেয়ালাগুলি রসে ভরে তোলা শুনতে সহজ, আসলে দুঃসাধ্য। এবারে ক্লাস্ত দুর্বল শরীর নিয়ে বেরিয়েছিলুম। তাই, অস্তরে যে-নারীপ্রকৃতি অন্তঃপুরচারিণী হয়ে বাস করে ক্ষণে ক্ষণে সে আপন ঘরের দাবি জানাবার সময় পেয়েছিল। এই দাবির মধ্যে আমার পক্ষে কেবল যে আরামের লোভ তা নয়, সার্থকতার আশাও রয়েছে। জীবনপথের শেষদিকে বিশ্বলক্ষ্মীর আতিথ্যের জন্তে প্রাস্ত চিত্তের ষে ঔৎসুক্য সে কেবল শক্তির অপচয় নিবারণের আগ্রহে, পাথেয় পূর্ণ করে নেবার জন্তে। কাজের হুকুম এখনো মাথার উপর অথচ উদ্যম এখন নিস্তেজ, মন তাই প্রাণশক্তির ভাণ্ডারীর খোজ করে। শুষ্ক তপস্তার পিছনে কোথায় আছে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার। দিনের অালো যখন নিবে আসছে, সামনের অন্ধকারে যখন সন্ধ্যার তারা দেখা দিল, যখন জীবনযাত্রার বোঝা খালাস করে অনেকখানি বাদ দিয়ে অল্প-কিছু বেছে নেবার জন্তে মনকে তৈরি হতে হচ্ছে, তখন কোনটা রেখে কোনটা নেবার জন্তে মনের ব্যগ্রত আমি তাই লক্ষ্য করে দেখছি। সমস্ত দিন প্রাণপণ চেষ্টায় ষা-কিছু সে জমিয়েছিল, গড়ে তুলেছিল, সংসারের হাটে যদি তার কিছু দাম থাকে তবে তা সেইখানেই থাক, স্বারা আগলে রাখতে চায় তারাই তার খবরদারি করুক ; রইল টাকা, রইল খ্যাতি, রইল কীর্তি, রইল পড়ে বাইরে ; গোধূলির আঁধার যতই নিবিড় হয়ে আসছে ততই তারা ছায়া হয়ে এল ; তারা মিলিয়ে গেল মেঘের গায়ে স্বর্যাস্তের বর্ণচ্ছটার সঙ্গে। কিন্তু, যে-অনাদি অন্ধকারের বুকের ভিতর থেকে একদিন এই পৃথিবীতে বেরিয়ে এসেছি সেখানকার প্রচ্ছন্ন উৎস থেকে উৎসারিত জলধারা ক্ষণে ক্ষণে আমার যাত্রাপথের পাশে পাশে মধুর কলম্বরে দেখা দিয়ে আমার তৃষ্ণ মিটিয়েছে, আমার তাপ জুড়িয়েছে, আমার ধুলো ধুয়ে দিয়েছে, সেই তীর্থের জল ভরে রইল আমার স্থতির পাত্ৰখানি। সেই অন্ধকার অপরিসীমের হৃদয়কদের থেকে বারবার যে-বাশির ধ্বনি আমার প্রাণে এসে