পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাত্রী 80& নয়, বৈরাগ্যের দ্বারাই কর্মের বন্ধন চলে যায়। তেমনি ভোগেরও বিশুদ্ধরূপ আছে, সেই রূপটি পেতে গেলে বৈরাগ্য চাই । বলতে হয়, মা গৃধঃ, লোভ কোরো না । সৌন্দর্যভোগ মনকে জাগাবে, এইটেই তার স্বধৰ্ম ; তা না করে মনকে যখন সে ভোলাতে বসে তখন সে আপনার জাত খোয়ায়, তখন সে হয়ে যায় নীচ । উচ্চ-অঙ্গের আর্ট এই নীচতা থেকে বহু স্বত্বে আপনাকে বাচাতে চায়। লোভীর ভিড় তাড়াবার জন্তে সে অনেক সময়ে কঠোরকে স্বারের কাছে বসিয়ে রাখে, এমন-কি, অনেক সময় কিছু বিত্র, কিছু বেস্থর তার রচনার সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। কেননা, তার সাহস আছে ; সে জানে, যে-বিশিষ্টতা আর্টের প্রাণ তার সঙ্গে গায়ে পড়ে মিষ্টি মিশেল করবার কোনো দরকার নেই। উমার হৃদয় পাবার জন্তে শিবকে কল্প সাজতে হয় নি। বিশেষকে দেখবার আর-একটা কৌশল আছে, সে হচ্ছে নূতনত্ব। অতিপরিচয়ের আবরণে বিশেষ ঢাকা পড়ে, এইজন্তে অনভ্যস্তকেই বিশেষ বলে খাড়া করবার দিকে দুর্বল আর্টিস্টের প্রলোভন আসতে পারে। এই প্রলোভন আর্টিস্টের তপোভঙ্গের কারণ । অতিপরিচয়ের মানতার মধ্যেই চির-বিশেষের উজ্জলন্ধপ দেখাতে পারে ষে-গুণী সেই তো গুণী । যেখানটা সর্বদা আমাদের চোখে পড়ে অথচ দেখতে পাই নে, সেইখানেই দেখবার জিনিসকে দেখানো হচ্ছে আর্টিস্টের কাজ। সেইজন্যেই তো বড়ো বড়ো আর্টিস্টের রচনার বিষয় চিরকালের জিনিস। আর্ট পুরাতনকে বারে বারে নূতন করে। বিশেষকে সে দেখতে পায় হাতের কাছে, ঘরের কাছে। স্বষ্টি তো খনির জিনিস নয় যে খুড়তে খুড়তে তার পুজি ফুরিয়ে যাবে। সে-যে ঝরনা ; তার প্রাচীন ধারা-ষে চিরদিনই নবীন হয়ে বইছে, এইটে প্রমাণ করবার জন্যে তাকে কোনো অদ্ভূত ভঙ্গী করতে হয় না। অশোকের মঞ্জরী কালিদাসের আমলেও ষে-রঙে বসন্তের খামল বক্ষ রাঙিয়ে দিয়েছে আজও নূতনত্বের ভান করে সেই রং বদল করবার তার দরকার হয় নি। নিৰ্ভয়ে সে বর্ষে বর্ষে পুরাতনের বাসরঘরেই নবীনের ঘোমটা খুলে দিচ্ছে । বারে বারেই চোখের উপর থেকে জড়তার মোহ কেটে যাচ্ছে, আর চিরবিশেষকে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু, ইটের ঢেলার চেয়ে অশোকমঞ্জরীকেই বিশেষ করে দেখি কেন, এইটেই দাড়ায় প্রশ্ন । এর উত্তর এই যে, আপন অংশ-প্রত্যংশের সমাবেশ নিয়ে অশোক আপনার মধ্যে একটি সুসংগত বিশেষ ঐক্যকে প্রকাশ করে বলেই তার মধ্যে আমাদের মন একটি পুরো দেখাকে দেখে। ইটের ঢেলায় আমাদের কাছে সত্তার সেই চরমতা নেই। একটা ষ্টিম ইঞ্জিনের মধ্যে প্রয়োজনঘটিত স্বযমার ঐক্য আছে। কিন্তু, সেই ঐক্য প্রয়োজনেরই অনুগত। সে নিজেকেই চরম বলে প্রকাশ করে না, আর-কিছুকে প্রকাশ করে। সেই ইঞ্জিনের মধ্যে ব্যবহারের আনন্দ, তার মধ্যে