পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাত্রী 8'లిపి স্বরের দ্বন্ধ আমাকে স্থখ দেয় না, আমাকে পীড়া দেয়। তাই বলে আমি বলব না, গান স্বাক লুপ্ত হয়ে ; আমি বলব, পূর্ণ গানটাকে অস্তরে যেন জানি, তা হলেই থও স্বরের দ্বন্ধটা বাহিরে আমাকে আর বাজবে না, সেটাকেও অর্থও আনন্দের মধ্যে বিধৃত করে দেখব । ২৭ সেপ্টেম্বর বয়স যখন অল্প ছিল তখন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা মনকে খুব নাড়া দিয়েছে। এই ঘটনাগুলোর সত্যের গৌরব যদি যাচাই করতে চাই তবে দেখতে পাব, দুই বড়ো বড়ে সাক্ষী দুই-রকমের বাটখারা নিয়ে দাড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে ওজনের মিল নেই । বৈজ্ঞানিক পুরাতাত্ত্বিক যে-প্রমাণকে সব-চেয়ে খাটি বলে মানে সে হচ্ছে, যাকে বলা যেতে পারে সাধারণ প্রমাণ, সে হচ্ছে নির্বিশেষ। কিন্তু, মানুষ যেহেতু একান্ত বৈজ্ঞানিক নয়, সেইজন্তে মানুষের জগতে যে-সকল ঘটনা ঘটে সেগুলি যদি নিতান্ত তুচ্ছ না হয় তা হলে তাদের ওজন সাধারণ বাটখারার ওজন মানে না । তাদের বেলায় বিজ্ঞানকে হুটু করে দিয়ে কোথা থেকে একটা অসাধারণ তুলাদণ্ড এসে খাড়া হয়। বৈজ্ঞানিক সেই ওজনটাকে সাধারণ ওজনের সঙ্গে মিল করতে গিয়ে ভারি গোলমাল করতে থাকে। একটা খুব বড়ো দৃষ্টান্ত দেখা যাক, বুদ্ধদেব । যদি তার সময়ে সিনেমাওয়াল এবং খবরের কাগজের রিপোর্টারের চলন থাকত তা হলে তার খুব একটা সাধারণ ছবি পাওয়া যেত। তার চেহারা, চালচলন, র্তার মেজাজ, তার ছোটোখাটো ব্যক্তিগত অভ্যাস, তার রোগ তাপ ক্লাস্তি ভ্রাস্তি সব নিয়ে আমাদের অনেকের সঙ্গে মিল দেখতুম। কিন্তু, বুদ্ধদেব সম্বন্ধে এই সাধারণ প্রমাণটাকেই যদি প্রামাণিক বলে গণ্য করা যায় তা হলে একটা মস্ত ভুল করি। সে ভুল হচ্ছে পরিপ্রেক্ষিতের– ইংরেজিতে যাকে বলে পারসপেকটিভ। যে-জনতাকে আমরা সর্বসাধারণ বলি, সে কেবল ক্ষণকালের জন্তে মানুষের মনে ছায়া ফেলে মুহূর্তে মুহূর্তে মিলিয়ে যায়। অথচ, এমন সব মানুষ আছেন র্যারা শত শত শতাব্দী ধরে মানুষের চিত্তকে অধিকার করে থাকেন। ষে-গুণে অধিকার করেন সেই গুণটাকে ক্ষণকালের জাল দিয়ে ধরাই যায় না। ক্ষণকালের জাল দিয়ে যেটা ধরা পড়ে সেই হল সাধারণ মানুষ ; তাকে ডাঙায় তুলে মাছকোটার মতো কুটে বৈজ্ঞানিক যখন তার সাধারণত্ব প্রমাণ ক’রে আনন্দ করতে থাকেন তখন দামি জিনিসের বিশেষ দামটা থেকেই তারা মানুষকে বঞ্চিত করতে চান। সুদীর্ঘকাল ধরে মানুষ অসামান্ত মানুষকে এই বিশেষ দামটা দিয়ে এসেছে । সাধারণ সত্য মত্ত হস্তীর মতো এসে এই বিশেষ সত্যের পদ্মবনটাকে দলন করলে সেটা কি সহ করা যাবে। সিনেমাছবিতে গ্রামোফোনের ধ্বনিতে ষে-বুদ্ধকে পাওয়া যেতে পারে সে তে ক্ষণকালের বুদ্ধ ;