পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


86 8 রবীন্দ্র-রচনাবলী মানুষরা জ্যোতিষ্কজাতীয় ; জন্তুরা কেবলমাত্র বেঁচে থাকে, তাদের অস্তিত্ব দীপ্ত হয়ে ওঠে নি। কিন্তু, মানুষ কেবল-ষে আত্মরক্ষা করবে তা নয়, সে আত্মপ্রকাশ করবে । এই প্রকাশের জন্তে আত্মার দীপ্তি চাই। অস্তিত্বের প্রাচুর্য থেকে, অস্তিত্বের ঐশ্বৰ্ষ থেকেই এই দীপ্তি। বর্তমান যুগে যুরোপই সকল দিকে আপনার রশ্মি বিকীর্ণ করেছে ; তাই মানুষ সেখানে কেবল-ষে টিকে আছে তা নয়, টিকে থাকার চেয়ে আরো অনেক বেশি করে আছে। পর্যাপ্তে চলে আত্মরক্ষা, অপর্যাপ্তে আত্মপ্রকাশ। যুরোপে জীবন অপর্যাপ্ত । এটাতে আমি মনে দুঃখ করি নে । কারণ, যে-দেশেই যে-কালেই মানুষ কৃতার্থ হোক-না কেন, সকল দেশের সকল কালের মানুষকেই সে কৃতাৰ্থ করে। যুরোপ আজি প্রাণপ্রাচুর্বে সমস্ত পৃথিবীকেই স্পর্শ করেছে। সর্বত্রই মাহুষের স্বপ্ত শক্তির দ্বারে তার আঘাত এসে পড়ল। প্রভূতের দ্বারাই তার প্রভাব । যুরোপ সর্বদেশ সর্বকালকে যে স্পর্শ করেছে সে তার কোন সত্য দ্বারা । তার বিজ্ঞান সেই সত্য । তার যে-বিজ্ঞান মানুষের সমস্ত জ্ঞানের ক্ষেত্রকে অধিকার করে কর্মের ক্ষেত্রে জয়ী হয়েছে সে একটা বিপুল শক্তি । এইখানে তার চাওয়ার অন্ত নেই, তার পাওয়াও সেই পরিমাণে । গত বছর যুরোপ থেকে আসবার সময় একটি জর্মন যুবকের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। তিনি তার অল্পবয়সের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতবর্ষে আসছিলেন । মধ্যভারতের আরণ্য প্রদেশে যে-সব জাতি প্রায় অজ্ঞাতভাবে আছে দুবৎসর তাদের মধ্যে বাস করে তাদের রীতিনীতি তন্ন তন্ন করে জানতে চান । এরই জন্যে র্তারা দুজনে প্রাণপণ করতে কুষ্ঠিত হন নি। মানুষসম্বন্ধে মানুষকে আরো জানতে হবে, সেই আরো জানা বর্বর জাতির সীমার কাছে এসেও থামে না। সমস্ত জ্ঞাতব্য বিষয়কে এই রকম সংঘবদ্ধ করে জানা, বৃহবদ্ধ করে সংগ্রহ করা, জানবার সাধনায় মনকে সম্পূর্ণ মোহমুক্ত করা, এতে করে মানুষ যে কত প্রকাও বড়ে হয়েছে যুরোপে গেলে তা বুঝতে পারা যায়। এই শক্তি দ্বারা পৃথিবীকে যুরোপ মানুষের পৃথিবী করে স্থষ্টি করে তুলছে। যেখানে মানুষের পক্ষে ষা-কিছু বাধা আছে তা দূর করবার জন্তে সে যে-শক্তি প্রয়োগ করছে তাকে যদি আমরা সামনে মূর্তিমান করে দেখতে পেতুম তা হলে তার বিরাট রূপে অভিভূত হতে হত। এইখানে যুরোপের প্রকাশ যেমন বড়ো, যাকে নিয়ে সকল মানুষ গর্ব করতে পারে, তেমনি তার এমন একটা দিক আছে যেখানে তার প্রকাশ আচ্ছন্ন। উপনিষদে অাছে, ৰে-সাধকের সিদ্ধিলাভ করেছেন— তে সর্বগং সর্বত: প্রাপ্য ধীরা যুক্তাত্মানঃ সর্বমেৰাবিশন্তি : তারা সর্বগামী সত্যকে সকল দিক থেকে লাভ করে যুক্তাত্মভাবে সমস্তের