পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


थारौँ o 86th অথচ, মুশকিল হয়েছে এই যে, বিধাতাও আমাকে ছাড়েন নি। স্থষ্টিকর্তার লীলাম্বর থেকে বিধাতার কারখানার পর্যন্ত বে-রাস্তাটা গেছে সে রাস্তার হুই প্রান্তেই আমার আনাগোনার কামাই নেই। 鱸 এই দোটানায় পড়ে আমি একটা কথা শিখেছি। যিনি স্বষ্টিকর্তা স এব বিধাতা ; সেই জন্ধেই তার স্বষ্টি ও বিধান এক হয়ে মিশেছে, তার লীলা ও কাজ এই দুয়ের মধ্যে একান্ত বিভাগ পাওয়া যায় না। র্তার সকল কর্মই কারুকর্ম ; ছুটিতে খাটুনিতে গড়া ; কর্মের রূঢ় রূপের উপর সৌন্দর্যের আক্ৰ টেনে দিতে র্তার আলস্ত নেই। কর্মকে তিনি লজ্জা দেন নি। দেহের মধ্যে যন্ত্রের ব্যবস্থাকৌশল আছে কিন্তু তাকে আবৃত করে আছে তার স্বযমাসৌষ্ঠব, বস্তুত সেইটেই প্রকাশমান । মানুষকেও তিনি স্বাক্ট করবার অধিকার দিয়েছেন ; এইটেই তার সব চেয়ে বড়ো অধিকার । মানুষ যেখানেই আপনার কর্মের গৌরব বোধ করেছে সেখানেই কর্মকে সুন্দর করবার চেষ্টা করেছে। তার ঘরকে বানাতে চায় সুন্দর করে ; তার পানপত্র অন্নপাত্র স্বন্দর ; তার কাপড়ে থাকে শোভার চেষ্টা । তার জীবনে প্রয়োজনের চেয়ে সজার অংশ কম থাকে না । যেখানে মানুষের মধ্যে স্বভাবের সামঞ্জস্ত আছে সেখানে এইরকমই ঘটে। & এই সামঞ্জস্য নষ্ট হয়, যেখানে কোনো একটা রিপু, বিশেষত লোভ অতি প্রবল হয়ে ওঠে। লোভ জিনিসটা মানুষের দৈন্ত থেকে, তার লজ্জা নেই ; সে আপন অসন্ত্রমকে নিয়েই বড়াই করে। বড়ে বড়ো মুনফাওয়ালা পাটকল চটকল গঙ্গার ধারের লাবণ্যকে দলন করে ফেলেছে দম্ভভরেই। মানুষের রুচিকে সে একেবারেই স্বীকার করে নি ; একমাত্র স্বীকার করেছে তার পাওনার ফুলে-ওঠা থলিটাকে । বর্তমান যুগের বাহরূপ তাই নির্লজ্জতায় ভরা। ঠিক ষেন পাকযন্ত্রটা দেহের পর্দা থেকে সর্বসম্মুখে বেরিয়ে এসে আপন জটিল অন্ত্রতন্ত্র নিয়ে সর্বদা দোলায়মান। তার ক্ষুধার দাবি ও সুনিপুণ পাকপ্রণালীর বড়াইটাই সর্বাঙ্গীণ দেহের সম্পূর্ণ সৌষ্ঠবের চেয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে। দেহ যখন আপন স্বরূপকে প্রকাশ করতে চায় তখন স্বসংযত সুষমার দ্বারাই করে ; যখন সে আপন ক্ষুধাকেই সব ছাড়িয়ে একান্ত করে তোলে তখন বীভৎস হতে তার কিছুমাত্র লঙ্গা নেই। লালায়িত রিপুর নির্লজ্জতাই বর্বরতার প্রধান লক্ষণ, তা সে সভ্যতার গিলটি-করা তকমাই পরুক কিম্বা অসভ্যতার পশুচর্মেই সেজে বেড়াক— ডেভিল ডানসই নাচুক কিম্ব জাজ, ভানস। বর্তমান সভ্যতায় রুচির সঙ্গে কৌশলের ষে বিচ্ছেদ চার দিক থেকেই দেখতে পাই তার একমাত্র কারণ, লোভটাই তার অন্ত-সকল সাধনাকে ছাড়িয়ে সম্বোদর হয়ে