পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8७३ রবীন্দ্র-রচনাবলী 啤 \@ বুনো হাতি মূর্তিমান উৎপাত, বজবুংহিত ঝড়ের মেঘের মতো। এতটুকু মান্থব, হাতির একটা পায়ের সঙ্গেও যার তুলনা হয় না, সে ওকে দেখে খামখা বলে উঠল, *আমি এর পিঠে চড়ে বেড়াব।” এই প্রকাগু দুর্দাম প্রাণপিণ্ডটাকে গা গা করে শুড় তুলে আসতে দেখেও এমন অসম্ভবপ্রায় কথা কোনো একজন ক্ষীণকায় মাম্বব কোনো এককালে ভাবতেও পেরেছে, এইটেই আশ্চর্য। তার পরে “পিঠে চড়ব” বলা থেকে আরম্ভ করে পিঠে চড়ে-বসা পর্যন্ত যে-ইতিহাস সেটাও অতি অদ্ভুত। অনেকদিন পর্যন্তই সেই অসম্ভবের চেহারা সম্ভবের কাছ দিয়েও আসে নি— পরম্পরাক্রমে কত বিফলতা কত অপঘাত মানুষের সংকল্পকে বিদ্রুপ করেছে তার সংখ্যা নেই ; সেটা গণনা করে করে মানুষ বলতে পারত, এটা হবার নয়। কিন্তু তা বলে নি । অবশেষে একদিন সে হাতির মতো জন্তুরও পিঠে চড়ে ফসলখেতের ধারে লোকালয়ের রাস্তায়-ঘাটে ঘুরে বেড়ালে । এটা সাংঘাতিক অধ্যবসায়, সেই জন্যেই গণেশের হাতির মুণ্ডে মানুষের সিদ্ধির মূতি। এই সিদ্ধির দুই দিকে দুই জন্তুর চেহারা, এক দিকে রহস্যসন্ধানকারী স্বল্পভ্রাণ তীক্ষদৃষ্টি খরদস্ত চঞ্চল কৌতুহল, সেটা ইদুর, সেইটেই বাহন ; আর-একদিকে বন্ধনে বশীভূত বন্তশক্তি যা দুৰ্গমের উপর দিয়ে বাধা ডিঙিয়ে চলে, সেই হল যান— সিদ্ধির যানবাহনযোগে মানুষ কেবলই এগিয়ে চলছে। তার ল্যাবরেটরিতে ছিল ইদুর, আর তার এরোপ্লেনের মোটরে আছে হাতি। ইছরটা চুপিচুপি সন্ধান বাতলিয়ে দেয়, কিন্তু ওই হাতিটাকে কায়দা করে নিতে মানুষের অনেক দুঃখ । তা হোক, মানুষ দুঃখকে দেখে হার মানে না, তাই সে আজ দু্যলোকের রাস্তায় যাত্রা আরম্ভ করলে। কালিদাস রাঘবদের কথায় বলেছেন, তারা ‘আনাকরথবক্স নাম— স্বর্গ পর্যন্ত তাদের রথের রাস্তা। যখন এ কথা কবি বলেছেন তখন মাটির মানুষের মাথায় এই অদ্ভূত চিন্তা ছিল যে, আকাশে না চললে মানুষের সার্থকতা নেই। সেই চিস্তা ক্রমে আজ রূপ ধরে বাইরের আকাশে পাখা ছড়িয়ে দিলে। কিন্তু, রূপ যে ধরল সে মৃত্যুজয়কারী ভীষণ তপস্যায়। মানুষের বিজ্ঞানবুদ্ধি সন্ধান করতে জানে, এই যথেষ্ট নয় ; মানুষের কীতিবুদ্ধি সাহস করতে জানে, এইটে তার সঙ্গে যখন মিলেছে তখনই সাধকদের তপঃসিদ্ধির পথে পথে ইন্দ্রদেব যে-সব বাধা রেখে দেন সেগুলো ধূলিসাৎ হয়। তীরে দাড়িয়ে মানুষ সামনে দেখলে সমূদ্র । এত বড়ো বাধা কল্পনা করাই যায় না। চোখে দেখতে পায় না এর পার, তলিয়ে পায় না এর তল। যমের মোষের মতো কালে, দিগন্তগ্রসারিত বিরাট একটা নিষেধ কেবলই তরঙ্গতর্জনী তুলছে। চিরবিরোহী মান্তষ বললে, “নিষেধ মানব না।” বজগর্জনে জবাব এল, “না মান তো মরবে।” মাহব