পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী واتسئ8 একটা সত্যসাধনা ছিল বলেই তার আত্মপরিচয়ের পদ্ধতিও আপনিই এমন সত্য হয়ে উঠেছিল। যথার্থ শ্রদ্ধা কখনো ফাকি দিয়ে কাজ সারতে চায় না। অর্থাং রাষ্ট্রসভার রঙ্গমঞ্চের উপর ক্ষণিক মিলনের অভিনয়কেই সে মিলন বলে নিজেকে ভোলাতে চায় না । সেদিন মিলনের সাধনা ছিল অকৃত্রিম নিষ্ঠার সাধনা। সেদিনকার ভারতবর্ষের সেই আত্মমূতিধ্যান সমুদ্র পার হয়ে পূর্বমহাসাগরের এই স্বদূর দ্বীপপ্রান্তে এমন করে স্থান পেয়েছিল যে, আজ হাজার বছর পরেও সেই ধ্যানমন্ত্রের আবৃত্তি এই রাজার মুখে ভক্তির স্বরে বেজে উঠল, এতে আমার মনে ভারি বিস্ময় লাগল। এই-সব ভৌগোলিক নামমালা এদের মনে আছে বলে নয়, কিন্তু ষেপ্রাচীন যুগে এই নামমালা এখানে উচ্চারিত হয়েছিল সেই যুগে এই উচ্চারণের কী গভীর অর্থ ছিল সেই কথা মনে ক’রে। সেদিনকার ভারতবর্ষ আপনার ঐক্যটিকে কত বড়ো আগ্রহের সঙ্গে জানছিল আর সেই জানাটিকে স্থায়ী করবার জন্তে, ব্যাপ্ত করবার জন্তে, কিরকম সহজ উপায় উদ্ভাবন করেছিল তা স্পষ্ট বোঝা গেল আজ এই দূর দ্বীপে এসে— ষে-দ্বীপকে ভারতবর্ষ ভুলে গিয়েছে। রাজা কিরকম উৎসাহের সঙ্গে হিমালয় বিন্ধ্যাচল গঙ্গা যমুনার নাম করলেন, তাতে কিরকম র্তার গর্ব বোধ হল! অথচ, এ ভূগোল বস্তুত তাদের নয় ; রাজা য়ুরোপীয় ভাষা জানেন না, ইনি আধুনিক স্কুলে-পড়া মানুষ নন, স্বতরাং পৃথিবীতে ভারতবর্ষ জায়গাটি-ষে কোথায় এবং কিরকম, সে-সম্বন্ধে সম্ভবত র্তার অস্পষ্ট ধারণা, অন্তত বাহত এ ভারতবর্ষের সঙ্গে তাদের কোনো ব্যবহারই নেই ; তবুও হাজার বছর আগে এই নামগুলির সঙ্গে যে-স্থর মনে বাধা হয়েছিল সেই স্বর আজও এ দেশের মনে বাজছে। সেই স্বরটি কত বড়ো খাটি স্বর ছিল তাই আমি ভাবছি। আমি কয়েক বছর আগে ভারতবিধাতার ঘে-জয়গান রচনা করেছি তাতে ভারতের প্রদেশগুলির নাম গেথেছি— বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গার নামও আছে। কিন্তু, আজ আমার মনে হচ্চে, ভারতবর্ষের সমস্ত প্রদেশের ও সমুদ্রপর্বতের নামগুলি ছন্দে গেঁথে কেবলমাত্র একটি দেশপরিচয় গান আমাদের লোকের মনে গেথে দেওয়া ভালো। দেশাত্মবোধ বলে একটা শব্দ আজকাল আমরা কথায় কথায় ব্যবহার করে থাকি, কিন্তু দেশাত্মজ্ঞান নেই যার তার দেশাত্মবোধ হবে কেমন করে। তার পরে রাজা আউড়ে গেলেন সপ্তসমূদ্র, সপ্তপর্বত, সপ্তবন, সপ্তআকাশ– অর্থাৎ, তখনকার দিনে ভারতবর্ষ বিশ্বস্তৃবৃত্তাস্ত যে-রকম কল্পনা করেছিল তারই স্থতি। আজ নূতন জ্ঞানের প্রভাবে সেই স্থতি নির্বাসিত, কেবল তা পুরাণের জীর্ণ পাতায় আটকে রয়েছে, কিন্তু এখানকার কণ্ঠে এখনো তা শ্রদ্ধার সঙ্গে ধ্বনিত। তার পরে রাজা চার