পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Qé8 ब्रवैौटा-ब्रक्रमांबलौ প্রাসাদের একটি নিভৃত অংশ জামরাই অধিকার করে আছি। এখানে স্থান প্রচুর, জারামের উপকরণ যথেষ্ট, আতিথ্যের উপদ্রব নেই। রাজবাড়ি বহুবিস্তীর্ণ, বহুবিভক্ত । আমরা যেখানে আছি তার প্রকাগু একটি অলিন্দ, সাদা মাৰ্বল পাথরে বাধানে, সারি সারি কাঠের থামের উপরে ঢালু কাঠের ছাদ । এই রাজপরিবারের বর্ণলাঞ্ছন হচ্ছে সবুজ ও হলদে, তাই এই অলিদের থাম ও ছাদ সবুজে সোনালিতে চিত্রিত। অলিন্দের এক ধারে গামেলান-সংগীতের যন্ত্র সাজানো । বৈচিত্র্যেও কম নয়, সংখ্যাতেও অনেক । সাত স্বরের ও পাচ স্বরের ধাতুফলকের যন্ত্র অনেক রকমের, অনেক আয়তনের, হাতুড়ি দিয়ে বাজাতে হয়। ঢোলের আকার ঠিক আমাদের দেশেরই মতে, বাজাবার বোল ও কায়দা অনেকটা সেই ধরনের। এ ছাড়া বাশি, আর ধন্থ দিয়ে বাজাবার তাতের যন্ত্র । রাজা স্টেশনে গিয়ে আমাদের অভ্যর্থনা করে এনেছিলেন। সন্ধ্যাবেলায় একত্র আহারের সময় তার সঙ্গে ভালো করে আলাপ হল । অল্প বয়স, বুদ্ধিতে উজ্জল মুখশ্ৰী। ডাচ ভাষায় আধুনিক কালের শিক্ষা পেয়েছেন ; ইংরেজি অল্প অল্প বলতে ও বুঝতে পারেন। খেতে বসবার আগে বারান্দার প্রান্তে বাজনা বেজে উঠল, সেইসঙ্গে এখানকার গানও শোনা গেল । সে-গানে আমাদের মতো আস্থায়ী-অন্তরার বিভাগ নেই। একই ধুয়ো বারবার আবৃত্তি করা হয়, বৈচিত্র্য যা-কিছু তা যন্ত্র বাজনায়। পূর্বের চিঠিতেই বলেছি, এদের যন্ত্রবাজনাটা তাল দেবার উদ্দেশে। আমাদের দেশে বায়া তবলা প্রভৃতি তালের যন্ত্র যে-সপ্তকে গান ধরা হয় তারই সা স্বরে বাধা ; এখানকার তালের যন্ত্রে গানের সব স্বরগুলিই আছে। মনে করে, “তুমি যেয়ে না এখনি, এখনো আছে রজনী” ভৈরবীর এই এক ছত্র মাত্র কেউ যদি ফিরে ফিরে গাইতে থাকে আর নানাবিধ যন্ত্রে ভৈরবীর স্বরেই যদি তালের বোল দেওয়া হয়, আর সেই বোল-যোগেই যদি ভৈরবী রাগিণীর ব্যাখ্যা চলে তা হলে যেমন হয় এও সেইরকম। পরীক্ষা করে দেখলে দেখা যাবে, শুনতে ভালোই লাগে, নানা আওয়াজের ধাতুবান্তে স্বরের নৃত্যে আসর খুব জমে ওঠে। ዕቅ খেয়ে এসে আবার আমরা বারান্দায় বসলুম। নাচের তালে দুটি অল্প বয়সের মেয়ে এসে মেজের উপর পাশাপাশি বসল। বড়ো সুন্দর ছবি। সাজে সজায় চমৎকার স্বছন্দ। সোনায়-খচিত মুকুট মাথায়, গলায় সোনার হারে অর্ধচন্দ্রাকার হাস্থলি, মণিবন্ধে সোনার সপকুণ্ডলী বালা, বাহুতে একরকম সোনার বাজুবন্দ— তাকে এরা বলে কীলকবাহু। কাধ ও দুই বাহু অনাবৃত, বুক থেকে কোমর পর্যন্ত সোনায়-সবুজেমেলানো অঁাট কাচলি ; কোমরবন্দ থেকে দুই ধারার বস্ত্রাঞ্চল কেঁচার মতো সামনে জুলছে। কোমর থেকে পা পর্যন্ত শাড়ির মতোই বন্ধৰেষ্টমী, স্বন্দর বর্তিকশিল্পে