পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बरौठ-बळ्नांबनौ سbه 4 খুব গভীর প্রবল ও প্ৰমত্ত হয়ে উঠছে। অথচ, সে সংগীত শ্রুতিকটু একটুও নয় ; বহুষত্রসম্মিলনের স্বশ্ৰাব্য নৈপুণ্য তার উদ্ধামতার সঙ্গে চমৎকার সম্মিলিত। নাচ, সে বড়ো আশ্চর্য। তাতে যেমন পৌরুষ সৌন্দর্যও তেমনি। লড়াইয়ের দ্বন্দ্বঅভিনয়ে নাচের প্রকৃতি একটুমাত্র এলোমেলো হয়ে যায় নি। আমাদের দেশের স্টেজে রাজপুত বীরপুরুষের বীরত্ব যেরকম নিতান্ত খেলো এ তা একেবারেই নয়। প্রত্যেক ভঙ্গীতে ভারি একটা মর্যাদা আছে। গদাযুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ, মুঘলের আঘাত, সমস্তই ক্ৰটিমাত্রবিহীন নাচে ফুটে উঠেছে। সমস্তর মধ্যে অপূর্ব একটি শ্ৰী অথচ দৃপ্ত পৌরুষের আলোড়ন। এর আগে এখানে মেয়েদের নাচ দেখেছি, দেখে মুগ্ধও হয়েছি, কিন্তু এই পুরুষের নাচের তুলনায় তাকে ক্ষীণ বোধ হল। এর স্বাদ তার চেয়ে অনেক বেশি প্রবল। যখন গ্রুপদের নেশায় পেয়ে বসে তখন টপ্পার নিছক মিষ্টত হালকা বোধ হয়, এও সেইরকম। । আজ সকালে দশটার সময়ে আমাদের এখানেই গৃহকর্তা আর-একটি নাচের ব্যবস্থা করেছিলেন। মেয়ে দুজনে পুরুষের ভূমিকা নিয়েছিল। অজুন আর স্ববলের যুদ্ধ। গল্পটা হয়তো মহাভারতে আছে কিন্তু আমার তো মনে পড়ল না। ব্যাপারটা হচ্ছে— কোন-এক বাগানে অজুনের অস্ত্র ছিল, সেই অস্ত্র চুরি করেছে স্ববল, সে খুজে বেড়াচ্ছে অজুনকে মারবার জন্যে । অজুন ছিল বাগানের মালী-বেশে । খানিকটা কথাবার্তার পরে দুজনের লড়াই। স্কবলের কাছে বলরামের লাঙল অস্ত্রটা ছিল। যুদ্ধ করতে করতে অজুন সেটা কেড়ে নিয়ে তবে স্ববলকে মারতে পারলে । নটীরা ষে মেয়ে সেটা বুঝতে কিছুই বাধে না, অতিরিক্ত যত্নে সেটা লুকোবার চেষ্টাও করে নি। তার কারণ, যারা নাচছে তারা মেয়ে কি পুরুষ সেটা গৌণ, নাচটা কী সেইটেই দেখবার বিষয়। দেহটা মেয়ের কিন্তু লড়াইট পুরুষের, এর মধ্যে একটা বিরুদ্ধতা আছে বলেই এই অদ্ভূত সমাবেশে বিষয়টা আরো যেন তীব্র হয়ে ওঠে। কমনীয়তার আধারে বীররসের উচ্ছলতা । মনে করো না— বাঘ নয়, সিংহ নয়, জবাফুলে ধুতরাফুলে সাংঘাতিক হানাহানি, ডাটায় ডাটায় সংঘর্ষ, পাপড়িগুলি ছিন্নবিচ্ছিন্ন ; এদিকে বনসভা কঁাপিয়ে বৈশাখী ঝড়ের গামেলান বাজছে, গুরুগুরু মেঘের মৃদঙ্গ, গাছের ডালে ডালে ঠকাঠকি, আর সে সে শব্দে বাতাসের বঁাশি । የ সব-শেষে এলেন রাজার ভাই । এবার তিনি একলা নাচলেন । তিনি ঘটোৎকচ। হাস্তরসিক বাঙালি হয়তো ঘটোৎকচকে নিয়ে বরাবর হাসাহালি করে এসেছে। এখানকার লোকচিত্তে ঘটোৎকচের খুব আদর। সেইজন্তেই মহাভারতের গল্প এদের হাতে আরো অনেকখানি বেড়ে গেল। এরা ঘটোৎকচের সঙ্গে ভাগিব (ভার্গৰী) বলে এক