পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(teు রবীন্দ্র-রচনাবলী পূর্ণ যে-চিঠির উল্লেখ আছে তাহ পূরবীর শিলংয়ের চিঠি’ কবিতায় উল্লিখিত শ্ৰীমতী নলিনী দেবী লিখিয়াছিলেন। সে চিঠির জবাবে রবীন্দ্রনাথ যে পত্র লেখেন এই প্রসঙ্গে ১৩৪৯ আশ্বিনের ‘অলকা মাসিকপত্র হইতে তাহ সম্পূর্ণ উদ্ভূত করা গেল : কল্যাণীয়াস্ন, কলম্বোতে এসে যাত্রার আগের দিনই তোমার সুন্দর চিঠিখানি পেয়ে বড়ো খুশি হয়েছি। আজ সকালে এসে পৌছলুম। তখন থেকে আকাশ মেঘে অন্ধকার। ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টি পড়ছে, আর বাদলা হাওয়া খামক হা-হুতাশ করে উঠছে। যাত্রার পূর্বে এরকম দুর্যোগে মনের উৎসাহ কমে যায়— স্বৰ্যকিরণ না পেলে মনে হয় যেন আকাশের দৈববাণী থেকে বঞ্চিত হলুম। এমন সময় তোমার চিঠি আমার হাতে এল, মনে হল, বাংলাদেশ যেন একটি বাঙালি মেয়ের কণ্ঠে আমার কাছে জয়ধ্বনি পাঠিয়ে দিলেন। এই বৃষ্টিবাদলের পর্দার ভিতর থেকে বাংলার অন্তঃপুরের শাখ বেজে উঠল। যিনি সকল শুভ বিধান করেন তোমার শুভকামনা নিশ্চয় তার কাছে গিয়ে পৌছবে, আমার যাত্র সফল হবে । এবারে কলকাতা থেকে বেরবার আগে আমার চারি দিকে যেমন ছিল ভিড় তেমনি আমার দেহে মনে ছিল ক্লাস্তি। আস নি ভালোই করেছ, কেননা, তোমার সঙ্গে ভালো করে কথা বলা অসম্ভব হত। তুমি হয়তো ভাবছ আমি ভারি অহংকারী— ছোটাে মেয়েদের ছোটো বলে থাতির করি নে। ভারি ভুল, আমি বড়োদের ভয় করি, তাদের সব কথা বিশ্বাস করি নে— আমার অন্তরের শ্রদ্ধা ছোটোদের দিকে । আমার কেবল ভয় পাছে আমার পাকা দাড়ি দেখে অকস্মাং তারা আমাকে নারদখষির মতো ভক্তিভাজন মনে করে বসে । কিন্তু যাই বল, আমি ডায়ারি লিখতে পারব না। আমি ভারি কুঁড়ে। চিঠি লেখার, ডায়ারি লেখার, একটা বয়স আছে ; সে বয়স আমার কেটে গেছে । কিন্তু, অল্প বয়সেও আমি ডায়ারি লিখি নি। যে-সব কথা ভুলে যাবার সে-সব কথা জমিয়ে রাখবার চেষ্টাই করি নি ; যে-সব কথা না ভোলবার সে-সব তো মনে আপনিই আঁকা থাকে। সময় পেলে তোমার সঙ্গে দু ঘণ্টা তিন ঘণ্টা ধরে গল্প করতে রাজি আছি । অবশু, তোমাকেই থেকে থেকে তার ধুয়ো ধরিয়ে দিতে হবে। গল্প বলার চেয়ে গল্প শুনতেই ভালোবাসি, যদি গল্প বলার গলাটি মিষ্ট থাকে। অভিং বলে আমার একটি ভাইঝি ছিল, তার গলা ছিল খুব মিষ্টি। একদিন কী একটা ১ রবীন্দ্র-রচনাবলী, চতুর্দশ খণ্ড দ্রষ্টব্য। ২ অভিজ্ঞা দেবী, হেমেন্ত্রনাথ ঠাকুরের তৃতীয় কষ্ট ।