পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী মাধে৷ রায়বাহাদুর কিষনলালের স্তাকরা জগন্নাথ, সোনারুপোর সকল কাজে নিপুণ তাহার হাত । আপন বিদ্যা শিখিয়ে মাহুষ করবে ছেলেটাকে এই আশাতে সময় পেলেই ধরে আনত তাকে ; বলিয়ে রাখত চোখের সামনে, জোগান জেৰার কাজে লাগিয়ে দিত যখন তখন ; আবার মাঝে মাঝে ছোটো মেয়ের পুতুল-খেলার গয়না গড়াবার ফরমাশেতে খাটিয়ে নিত ; আগুন ধরাবার সোনা গলাবার কর্মে একটুখানি ভুলে চড়চাপড়টা পড়ত পিঠে, টান লাগতে চুলে । স্বষোগ পেলেই পালিয়ে বেড়ায় মাধো যে কোনখানে ঘরের লোকে খুঁজে ফেরে বৃথাই সন্ধানে । । শহরতলির বাইরে আছে দিঘি সাবেককেলে সেইখানে সে জোটায় যত লক্ষ্মীছাড়া ছেলে । গুলিডাগু খেলা ছিল, দোলনা ছিল গাছে, জানা ছিল যেথায় যত ফলের বাগান আছে । মাছ ধরবার ছিপ বানাত, লিস্বভালের ছড়ি ; টাট,ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছোটগত দড় বড়ি ! কুকুরটা তার সঙ্গে থাকত, নাম ছিল তার বটু— গিরগিটি আর কাঠবেড়ালি তাড়িয়ে ফেরায় পটু ৷ শালিখপাখির মহলেতে মাধোর ছিল ধশ, ছাতুর গুলি ছড়িয়ে দিয়ে করত তাদের বশ । বেগfর দেওয়ার কাজে পাড়ায় ছিল না তার মতো, বাপের শিক্ষানবিশিতেই কুঁড়েমি তার যত । কিষনলালের ছেলে, তাকে দুলাল ব’লে ভাকে, পাড়াস্থদ্ধ ভয় করে এই বাজয় ছেলেটাকে । বড়োলোকের ছেলে ব’লে গুমল্প ছিল মনে,