পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তপতী ১২৭ নরেশ । সিদ্ধি হবেই, আমি একলাই তা প্রমাণ করব— কাশ্মীর পর্যন্ত না গিয়ে ! বিপাশা। তোমার যত বড়ো অংহকার তত বড়োই জ্বরাশ । নরেশ । দুরাশাই আমার, সেই আমার অহংকার। আমার আকাঙ্ক্ষা পর্বতের দুৰ্গম শিখর। সেখানে প্রভাতের দুর্লভ তারাকে দেখি, ভোরের স্বপ্নে। বিপাশা। তোমাদের কবির কাছে পাঠ মুখস্থ করে এলে ৰুকি ? নরেশ । প্রয়োজন হয় না। বাইরে যার কাছ থেকে পাই কঠোর কথা, অস্তরে সেই দেয় বাণীর বর, গোপনে। যদি লাহল জাও তার নামটি তোমাকে বলি । বিপাশা। কাজ নেই অত সাহলে 1 । নরেশ । তবে থাক। কিন্তু এই পদ্মের কুঁড়ি, একে নিতে দোষ কী । এও তো মুখ ফুটে কিছু বলে না । বিপাশা। না, নেব না। * নরেশ । কাশ্মীরের সরোবর থেকে এর মূল এনেছিলুম। অনেকদিন অনেক দ্বিধার পরে দেখা দিয়েছে তার এই কুঁড়িটি। মনে হচ্ছে আমার সৌভাগ্য তার প্রথম নিদর্শনপত্রটি পাঠিয়েছে— এর মধ্যে একজনের অদৃশু স্বাক্ষর আছে। নেৰে না ? এই রেখে গেলাম তোমার পায়ের কাছে। [ প্রস্থানোস্তম বিপাশা। শোনো, শোনো, আবার বলছি তোমরা কাশ্মীর জয় কর নি । নরেশ । নিশ্চয় করেছি। সেজন্তে রাগ করতে পার, অবজ্ঞা করতে পারবে না। জয় করেছি। বিপাশা | ছল করে । নরেশ । না, যুদ্ধ করে। বিপাশা। তাকে যুদ্ধ বলে না। নরেশ । ই, যুদ্ধই বলে । বিপাশা । সে জয় নয় । নরেশ । সে জয়ই । বিপাশা। তবে ফিরিয়ে নিয়ে যাও তোমার পদ্মের কুঁড়ি। নরেশ । ফিরিয়ে নেবার সাধ্য আমার মেই। বিপাশা। এ আমি কুটি কুটি করে ছিড়ে ফেলৰ । নরেশ। পার তো ছিড়ে ফেলো— কিন্তু আমি দিয়েছি আর ভূমি নিয়েছ, এ কথা রইল বিধাতার মনে— চিরদিনের মতো । r [ প্রস্থান