পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৭৪ রবীন্দ্র-রচনাবলী চন্দ্রসেন । সমস্ত কাশ্মীরের লোক আমাকে অভিসম্পাত করছে, অবশেষে তোমারও মুখে এমন কথা শুনব এ আমি আশা করি নি। বিক্রম। তুমি অল্প আগেই এখানে কুমারের কাছে এসেছিলে এ কথা সত্য কি না । চন্দ্রলেন। তাকে তোমার কাছে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দিতে এসেছিলুম। বিক্রম। সেই ছলেই তাকে জানিয়েছ আমি এসেছি । আমার পক্ষ অবলম্বনের ভান করে তাকে সতর্ক করে দিয়েছ । চন্দ্রলেন। ভুল করে আমাকে অবিশ্বাস কোরো না, মহারাজ । বিক্রম। সেও ভালো, কিন্তু বিশ্বাস করে ভুল করবার সময় নেই। সেনাপতিকে আদেশ করে দিচ্ছি, তুমি দৃষ্টিবন্দী হয়ে থাকবে, শেষ পর্যন্ত কুমারকে স্বমিত্রাকে যদি না পাই তবে পশুর মতো পিঞ্জরে পুরে তোমাকে জালন্ধরে নিয়ে যাব, প্রাণদণ্ড দেওয়াও তোমার পক্ষে সন্মান । D দ্বিতীয় চরের প্রবেশ চর। মহিষীর সংবাদ পাওয়া গেছে । বিক্রম ৷ বলো বলো, কোথায় তিনি । চর। তিনি গেছেন মার্তগুদেবের মন্দিরে, এবতীর্থে। বিক্রম। চলো, এখনই চলে সেখানে । এই মুহূর্তে । চন্দ্রসেন । মহারাজ, কাশ্মীরের দেবতার বিরুদ্ধে স্পর্ধা প্রকাশ কোরো না । দেবালয়ে গিয়ে মার্তগুদেবের উপালিকাকে হরণ করা সইবে না। বিক্রম । তোমাদের মার্তগুদেবই তো আমার মহিষীকে হরণ করেছেন। দেবতার চৌধ আমি স্বীকার করব না। এ চন্দ্রলেন । এ কী বলছ । ভয় নেই তোমায় ? বিক্রম। না, ভয় নেই। চন্দ্রসেন। তা হলে আমার প্রাণদণ্ড করে। এ পাপের দায়িত্ব আমি বহন করতে পারব না । বিক্রম। প্রাণদণ্ড সব শেষে । যতক্ষণ তোমার কাছ থেকে কাজ উদ্ধারের আশা আছে, ততক্ষণ লয় । সেনাপতি— সেনাপতির প্রবেশ সেনাপতি । কী মহারাজ ।