পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী "לף צ স্থমিত্রা । বলো বৎস, তোমার কী বলবার অাছে। কুঞ্জলাল। যে নগরীতে তোমার মাতামহীর জন্মভূমি সেই উদয়পুর এতদিন চন্দ্রসেনকে অস্বীকার করে স্বতন্ত্র ছিল । তিনি যখনই সৈন্য নিয়ে উৎপাত করতে এসেছেন প্রজারা সমস্ত পুরী উজাড় করে চলে গেছে। এবার সেইখানেই যুবরাজের রাজধানী স্থাপন করে তার অভিষেকের আয়োজন হয়েছিল, বাধা পড়ল। রাজা বিক্রমের সৈন্ত উদয়পুর বেষ্টন করেছে। প্রজাদের বেরিয়ে যাবার পথ রুদ্ধ। ভার্গব । কুঞ্জলাল, এ কী বুদ্ধি তোর। কত বড়ো দুঃখ ওঁকে দিলি দেখ তো । কেন এ-সব সংবাদ এই শাস্তিতীর্থে। কুঞ্জলাল। মা, কেন এমন স্তন্ধ হয়ে আকাশে তাকিয়ে রইলে । চিস্তার কথা কিছুই নেই, মৃত্যুর পথ খোলা আছে, কোনো অপমান সেখানে পৌছয় না। দাও স্বহস্তে আজকে পূজার নির্মাল্য, নিয়ে যাই তাদের কাছে, আর দাও তোমার হাতের লিখন একখানি, একটি আশীৰ্বাদ— তাদের সব দুঃখ শুভ্র হয়ে যাবে। [ সকলের প্রস্থান নরেশের প্রবেশ নরেশ । বিপাশা, আমার কী মনে হচ্ছে বলব ? বিপাশা। • বলো তো । নরেশ । এইখানে এসে আমাদের প্রেম পরিপূর্ণ হয়েছে। আশ্চর্যের কথা শুনবে ? বিপাশা। কী, বলে । নরেশ । আজ মন তোমার গান শোনবারও অপেক্ষা করে না— সকল ধ্বনি এখানে আলোক হয়ে উঠেছে, প্রত্যক্ষ আমার অস্তরে প্রবেশ করে । তুমি কি তাই অনুভব কর না । বিপাশা। প্রিয়তম, তোমার আনন্দে আজি আমি আনন্দিত, তার চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারি নে। নরেশ । আজ আলোকের মধ্যে তোমাকে দেখলুম আলোকরূপে, আর সেই সঙ্গে আমাকেও । আর কোনো ক্ষোভ নেই আমার । সুমিত্রার প্রবেশ স্বমিত্রা । কুমার এসেছেন, শীঘ্র তাকে ডেকে আনো, বিপাশা ৷ தி [ নরেশ ও বিপাশার প্রস্থান