পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ ૨૨S ছিল, আবার সায়াহ্নে যখন আমার যশস্বৰ্ষ পশ্চাতে অস্তোন্মুখ হইল তখনো সেই শ্রদ্ধা দীর্ঘায়তন বিস্তার করিয়া আমার পদপ্রাস্ত পরিত্যাগ করিল না। কিন্তু এ শ্রদ্ধায় কোনো পরিতৃপ্তি নাই, ইহা শূন্ত ছায়ামাত্র, ইহা মূঢ় ভক্তহৃদয়ের মোহান্ধকার, ইহা বুদ্ধির উজ্জল রশ্মিপাত নহে। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ বাবা বিবাহ দিবার জন্ত আমাকে দেশ হইতে ভাকিয়া পাঠাইলেন । আমি কিছুদিন সময় লইলাম। বামাচরণবাবুর সমালোচনায় আমার নিজের মধ্যে একটা আত্মবিরোধ, নিজের প্রতি নিজের একটা বিজোহভাব জন্মিয়াছিল । আমার সমালোচক অংশ আমার লেখক অংশকে গোপনে আঘাত দিতেছিল। আমার লেখক অংশ বলিতেছিল, আমি ইহার প্রতিশোধ লইব ; আবার একবার লিখিব এবং তখন দেখিব, আমি বড়ো না আমার সমালোচক বড়ো । মনে মনে স্থির করিলাম, বিশ্বপ্রেম, পরের জন্য আত্মবিসর্জন এবং শক্রকে মার্জনা —এই ভাবটি অবলম্বন করিয়া গদ্যে হউক পদ্যে হউক, খুব সাব্লাইম'-গোছের একটা-কিছু লিখিব ; বাঙালী সমালোচকদিগকে স্ববৃহৎ সমালোচনার খোরাক জোগাইব । স্থির করিলাম, একটি স্বন্দর নির্জন স্থানে বসিয়া আমার জীবনের এই সর্বপ্রধান কীর্তিটির স্বষ্টিকার্ধ সমাধা করিব। প্রতিজ্ঞা করিলাম, অন্তত একমাসকাল বন্ধুবান্ধব পরিচিত অপরিচিত কাহারো সহিত সাক্ষাৎ করিব না । * অমূল্যকে ডাকিয়া আমার প্ল্যান বলিলাম। সে একেবারে স্তম্ভিত হইয়া গেল, সে যেন তখনই আমার ললাটে স্বদেশের অনতিদূরবর্তী ভাবী মহিমার প্রথম অরুণজ্যোতি দেখিতে পাইল । গম্ভীর মুখে আমার হাত চাপিয়া ধরিয়া বিস্ফারিত নেত্র আমার মুখের প্রতি স্থাপন করিয়া মুছম্বরে কহিল, “বাও, ভাই, অমর কীর্তি অক্ষয় গৌরব অর্জন করিয়া আইল ।” আমার শরীর রোমাঞ্চিত হইয়া উঠিল ; মনে হইল, যেন আসন্নগৌরবগর্বিত ভক্তিবিহ্বল বঙ্গদেশের প্রতিনিধি হইয়া অমূল্য এই কথাগুলি আমাকে বলিল। অমূল্যও বড়ো কম ত্যাগম্বীকার করিল না ; সে স্বদেশের হিতের জন্ত স্বনীর্ঘ একমাসকাল আমার সঙ্গপ্রত্যাশা সম্পূর্ণরূপে বিসর্জন করিল। সুগভীর দীর্ঘনিশ্বাস טכוכא