পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ २¢S করিতেন। তিনি তাহার অপুত্ৰক পিতৃব্য দুর্গামোহন সাহার বৃহৎ বিষয় এবং ব্যবসায়ের উত্তরাধিকারী হইয়াছিলেন। কিন্তু, তাহাকে একালে ধরিয়াছিল । তিনি লেখাপড়া শিখিয়াছিলেন। তিনি জুতাসমেত সাহেবের আপিলে ঢুকিয়া সম্পূর্ণ খাটি ইংরাজি বলিতেন । তাহাতে আবার দাড়ি রাখিয়াছিলেন, স্বতরাং সাহেব-সওদাগরের নিকট র্তাহার উন্নতির সম্ভাবনামাত্র ছিল না। র্তাহাকে দেখিবামাত্রই নব্যবঙ্গ বলিয়া ঠাহর হইত। আবার ঘরের মধ্যেও এক উপসর্গ জুটিয়াছিল। তাহার স্ত্রীটি ছিলেন সুন্দরী। একে কলেজে-পড়া তাহাতে সুন্দরী স্ত্রী, সুতরাং সেকালের চালচলন আর রহিল না । এমন-কি, ব্যামো হইলে অ্যাসিস্টান্ট-সার্জনকে ডাকা হইত। অশন বসন ভূষণও এই পরিমাণে বাড়িয়া উঠিতে লাগিল । মহাশয় নিশ্চয়ই বিবাহিত, অতএব এ কথা আপনাকে বলাই বাহুল্য যে, সাধারণত স্ত্রীজাতি কাচ আম, ঝাল লঙ্কা এবং কড়া স্বামীই ভালোবাসে । ধে দুর্ভাগ্য পুরুষ নিজের স্ত্রীর ভালোবাসা হইতে বঞ্চিত সে-যে কুত্ৰ অথবা নিধন তাহা নহে, সে নিতান্ত নিরীহ । { যদি জিজ্ঞাসা করেন, কেন এমন হইল, আমি এ সম্বন্ধে অনেক কথা ভাবিয়া রাখিয়াছি। যাহার যা প্রবৃত্তি এবং ক্ষমতা সেটার চর্চা না করিলে সে মুখী হয় না। শিঙে শনি দিবার জন্ত হরিণ শক্ত গাছের গুড়ি খোজে, কলাগাছে তাহার শিং ঘষিবার স্বখ হয় না। নরনারীর ভেদ হইয়া অবধি স্ত্রীলোক দুরন্ত পুরুষকে নানা কৌশলে ভুলাইয়া বশ করিবার বিদ্যা চর্চা করিয়া আসিতেছে। যে স্বামী আপনি বশ হইয়া বলিয়া থাকে তাহার স্ত্রী-বেচারা একেবারেই বেকার, সে তাহার মাতামহীদের নিকট হইতে শতলক্ষ বৎসরের শাণ-দেওয়া ষে উজ্জল বরুণাস্ত্র, অগ্নিবাণ ও নাগপাশবন্ধনগুলি পাইয়াছিল তাহা সমস্ত নিফল হইয়া যায়। স্ত্রীলোক পুরুষকে জুলাইরা নিজের শক্তিতে ভালোবাসা আদায় করিয়া লইতে চায়, স্বামী যদি ভালোমানুষ হইয়া সে অবসরটুকু না দেয়, তবে স্বামীর অদৃষ্ট মন্দ এবং স্ত্রীরও ততোধিক । নবসভ্যতার শিক্ষামন্ত্রে পুরুষ আপন স্বভাবসিদ্ধ বিধাতাত্তি স্থমহং বর্বরতা হারাইয়া আধুনিক দাম্পত্যসম্বন্ধটাকে এমন শিথিল করিয়া ফেলিয়াছে। অভাগা ফণিভূষণ আধুনিক সভ্যতার কল হইতে অত্যন্ত ভালোমাস্থ্যটি হইয়া বাহির হইয়া আসিয়াছিল —ব্যবসায়েও সে স্থবিধা করিতে পারিল না, দাম্পত্যেও তাহার তেমন সুযোগ ঘটে नांहे ।