পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨૧છr রবীন্দ্র-রচনাবলী জিজ্ঞাসা করিলেন, “ইনি কে ” পিসিমা কছিলেন, “এই মেয়েটিই আমার সেই ভাস্বরবি হেমাঙ্গিনী।” ইহাকে কখন আনা হইল, কে আনিল, কী বৃত্তান্ত, লইয়া আমার স্বামী বারম্বার অনেক অনাবশ্বক বিস্ময় প্রকাশ করিতে লাগিলেন। আমি মনে মনে কহিলাম, যাহা ঘটিতেছে তাহা তো সবই বুঝিতেছি, কিন্তু ইহার উপরে আবার ছলনা আরম্ভ হইল ? লুকাচুরি, ঢাকাঢাকি, মিথ্যাকথা ! অধৰ্ম করিতে যদি হয় তো করো, সে নিজের অশাস্ত প্রবৃত্তির জন্য, কিন্তু আমার জন্য কেন হীনতা করা । আমাকে ভুলাইবার জন্য কেন মিথ্যাচরণ।’ হেমাঙ্গিনীর হাত ধরিয়া আমি তাহীকে আমার শয়নগৃহে লইয়া গেলাম। তাহার মুখে গায়ে হাত বুলাইয়া তাহাকে দেখিলাম, মুখটি স্বন্দর হইবে, বয়সও চোদপনেরোর কম হইবে না। বালিকা হঠাৎ মধুর উচ্চকণ্ঠে হাসিয়া উঠিল কহিল, “ও কী করিতেছ। আমার ভূত ঝাড়াইয়া দিবে নাকি।” সেই উন্মুক্ত সরল হাস্যধ্বনিতে আমাদের মাঝখানের একটা অন্ধকার মেঘ যেন একমুহূর্তে কাটিয়া গেল । আমি দক্ষিণবাহুতে তাহার কণ্ঠ বেষ্টন করিয়া কহিলাম, “আমি তোমাকে দেখিতেছি, ভাই।” বলিয়া তাহার কোমল মুখখানিতে আরএকবার হাত বুলাইলাম। Z “দেখিতেছ?” বলিয়া সে আবার হাসিতে লাগিল। কহিল, “আমি কি তোমার বাগানের লিম না বেগুন যে হাত বুলাইয়া দেখিতেছ কতবড়োটা হইয়াছি ?” তখন আমার হঠাৎ মনে হইল, আমি যে অন্ধ তাহা হেমাঙ্গিনী জানে না । কছিলাম, “বোন, আমি যে অন্ধ।” শুনিয়া সে কিছুক্ষণ আশ্চর্য হইয়া গম্ভীর হইয়া রহিল। বেশ বুঝিতে পারিলাম, তাহার কুতূহলী তরুণ আয়ত নেত্ৰ দিয়া সে আমার দৃষ্টিহীন চক্ষু এবং মুখের ভাব মনোযোগের সহিত দেখিল ; তাহার পরে কহিল, “ও, তাই বুঝি কাকিকে এখানে আনাইয়াছ ?” আমি কছিলাম, “না, আমি ডাকি নাই। তোমার কাকি আপনি আসিয়াছেন।” বালিকা আবার হাসিয়া উঠিয়া কহিল, "দয়া করিয়া ? তাহা হইলে দয়াময়ী শীঘ্র নড়িতেছেন না ! কিন্তু, বাবা আমাকে এখানে কেন পাঠাইলেন।” এমন সময় পিসিমা ঘরে প্রবেশ করিলেন । এতক্ষণ অামার স্বামীর সঙ্গে র্তাহার কথাবার্তা চলিতেছিল । ঘরে আসিতেই হেমাঙ্গিনী কহিল, “কাকি, আমরা বাড়ি ফিরিব কবে বলে ।” *