পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


झब्ल 19షిణ সেইরকম বিশেষভাবে বিভক্ত দেহ এবং চার পা ফেলতে ফেলতে চল । চতুষ্পদ জন্তুর দুই পায়ের সমান বিন্যাস। যদি এমন হত যে, কোনো জানোয়ারের পা ছুটে বায়ের চেয়ে ডাইনে এক ফুট বেশি লম্বা তা হলে তার চলনে-স্থিতির চেয়ে অস্থিতিই বেশি হত ; স্বতরাং তার পিঠে সওয়ার চাপালে কোনো পক্ষেই আরাম থাকত না । ছন্দে তার একটা দৃষ্টান্ত দিই— তরণী বেয়ে শেষে | এসেছি ভাঙা ঘাটে, স্থলে না মেলে ঠাই। জলে না দিন কাটে । এ ছড়ায় প্রত্যেক লাইনে চোদ্দ অক্ষর, এবং মাঝে আর শেষে দুই যতিও আছে। তবু ওকে পয়ার বলবার জো নেই। ওর পা-ফেলার ভাগ অসমান। তরণী | বেয়ে শেষে ॥ এসেছি। ভাঙা ঘাটে । এক পায়ে তিন মাত্রা, আর-এক পায়ে চার । সাত মাত্রার পরে একটা করে যতি আছে, কিন্তু বেজোড় অঙ্কের অসাম্য ওই যতিতে পুরো বিরাম পায় না। সেইজন্তে সমস্ত পদটার মধ্যে নিয়তই একটা অস্থিরতা থাকে, যে পর্যন্ত না পদের শেষে এসে একটা সম্পূর্ণ স্থিতি ঘটে। এই অস্থিরতাই এরকম ছন্দের স্বভাব, অর্থাৎ পয়ারের ঠিক বিপরীত। এই অস্থিরতার সৌন্দর্যকে ব্যবহার করবার জন্যেই এইরকম ছন্দের রচনা। এর পিঠের উপর যেমন-তেমন করে যুগ্মধ্বনির সওয়ার চাপালে অস্বস্তি ঘটে । যদি লেখা যায় সায়াহ-অন্ধকারে এসেছি ভগ্ন ঘাটে তা হলে ছন্দটার কোমর ভেঙে যাবে। তবুও যদি যুগ্মবৰ্ণ দেওয়াই মত হয় তা হলে তার জন্যে বিশেষভাবে জায়গা করে দিতে হবে। পয়ারের মতো উদারভাবে যেমন খুশি ভার চাপিয়ে দিলেই হল না । অন্ধরাতে যবে । বন্ধ হল দ্বার, ঝঞ্জাবাতে ওঠে । উচ্চ হাহাকার । ,'s মনে রাখা দরকার, এই শ্লোক অবিকৃত রেখেও এর ভাগের ষদি পরিবর্তন করে পড়া যায়, দুই ভাগের বদলে প্রত্যেক লাইনে যদি তিন ভাগ বসানো যায়, তা হলে এটা আর-এক ছন্দ হয়ে যাবে । একে নিম্নলিখিত-রকম ভাগ করে পড়া স্বাক— অন্ধরাতে। যবে বন্ধ | হল দ্বার, ঝঞ্চাবাতে । ওঠে উচ্চ। হাহাকার । পশুপক্ষীদের চলন সমান মাত্রার দুই বা চার পায়ের উপর। এই পা'কে কেবল যে চলতে হয় তা নয়, দেহভার বইতে হয়। পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গেই বিরাম আছে বলে