পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छ्ञ ෆචර් প্রধানত ক্রিয়াপদেরই বিশেষ রূপটাতে প্রাকৃত-বাংলার চেহারা ধরা পড়ে। উপরের ছড়াগুলিতে "উড়ল’ ‘ছটুল’ টুটুল’ ‘ঢাকৃল’ প্রভৃতি প্রয়োগ নিয়ে তর্কট ছন্দের তর্ক নয়, ভাষারীতির । এইরকম ক্রিয়াপদ যদি ব্যবহার করি তবে ধরে নিতে হবে ওই ছড়াগুলি প্রাকৃত-বাংলাতেই লেখা হচ্ছে। আমি যে প্রবন্ধ লিখছি এও প্রাকৃত-বাংলার ঠাটে। যদি আমাকে কারে সঙ্গে মুখে মুখে আলোচনা করতে হত তা হলে এই লেখার সঙ্গে আমার মুখের কথার কোনো তফাত থাকত না । মাঝে মাঝে অভ্যাসদোষে হয়তো ইংরেজি শব্দ মুখ দিয়ে বেরিয়ে যেত, কিন্তু কখনোই ‘করিয়াছিল “গিয়াছে’ ধরনের ক্রিয়াপদ ভুলেও ব্যবহার করতে পারতুম না। আবার প্রাকৃত-বাংলার ক্রিয়াপদ সংস্কৃত-বাংলায় ব্যবহার করাও চলে না। প্রবোধচন্দ্র ‘বিচিত্রা’র লিখেছেন যে, বাঙালি কবির সাহস করে কবিতায় ‘করিব? ‘চলিব প্রভৃতি প্রয়োগ না করে কেন করব’ ‘চলব’ প্রয়োগ না করেন। যদি প্রশ্নটার অর্থ এই হয় যে, অযথাস্থানে কেন করি নে তবে তার উত্তর দেওয়া অনাবশ্বক। যদি বলেন, যথাস্থানেও কেন করি নে, তবে তার উত্তরে বলব, যথাস্থানে করে থাকি । যে তর্ক নিয়ে লেখা শুরু করেছিলেম সেটাতে ফিরে আসা যাক । বাংলায় হসন্তমধ্য শব্দগুলোয় কয় মাত্রা গণনা করা হবে, তাই নিয়ে সংশয় উঠেছে। যেগুলি ক্রিয়াপদ নয় সে সম্বন্ধে আমার বক্তব্য এ প্রবন্ধে গোড়াতেই আলোচনা করেছি। বলেছি, নিয়মের বিকল্প চলে ; কেননা, বাঙালির কান সাধারণ ব্যবহারে সেই বিকল্প মঞ্জুর করেছে। এ ক্ষেত্রে হিসাবে একটা মাত্রার কমিবেশি নিয়ে তর্ক ওঠে না । চিমনি ভেঙে গেছে দেখে গিরি রেগে খুন ; কি বলে, আমার দোষ নেই, ঠাকরুন। অন্তত চিমনি’কে দুই মাত্রা করার কবির দোষ হয় নি। আবার চিমনি ফেটেছে দেখে গৃহিণী সরোষ ; ঝি বলে, ঠাকরুন মোর নাই কোনো দোষ । এরকম বিপর্যয়ও চলে। একই ছড়ায় চিমনি'কে এক মাত্রা গ্রেস মার্কা দেওয়া হয়েছে, অথচ ‘স্তাক্রুন’কে খর্ব করে তিন মাত্রায় নামানো গেল। অপরাধ ঘটেছে বলে মনে করি নি । কুস্তির আখড়ায় ভিস্তিকে ধরে জল ছিটাইয়া দাও, ধুলা যাক মরে।