পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৭২ রবীন্দ্র-রচনাবলী প্রকাশ পায় নি। একটি প্রাকৃত ছন্দের শ্লোক উদ্ভূত করি। बणि छण उभरे घ- श्रंख्ञ५ লিঅল পবণ মণহরণ কণঅ-পিঅরি ণচই বিজুরি ফুল্লিঅ ণীবা। পখর-বিখর-হিঅল৷ পিঅ'লা [ নিঅলং ] ৭ আবেই। মাত্রা মিলিয়ে এই ছন্দ বাংলায় লেখা যাক । বৃষ্টিধারা শ্রাবণে ঝরে গগনে, শীতল পবন বহে সঘনে, কনক-বিজুরি নাচে রে, অশনি গর্জন করে । নিষ্ঠুর-অন্তর মম প্রিয়তম নাই ঘরে। বাঙালি পাঠকের কান একে রীতিমত ছন্দ বলে মানতে বাধা পাবে তাতে সন্দেছ নেই, কারণ এর পদবিভাগ প্রায় গদ্যের মতোই অসমান । যাই হোক, এর মধ্যে একটা ছন্দের কাঠামো আছে ; সেটুকুও যদি ভেঙে দেওয়া যায় তা হলে কাব্যকেই কি ভেঙে দেওয়া হল । দেখা যাক । অবিরল ঝরছে শ্রাবণের ধারা, বনে বলে সজল হাওয়া বয়ে চলেছে, সোনার বরন ঝলক দিয়ে নেচে উঠছে বিদ্যুৎ, বজ্র উঠছে গর্জন করে । নিষ্ঠুর আমার প্রিয়তম ঘরে এল না। একেও বলতে হবে কাব্য, বুদ্ধির সঙ্গে এর বোঝাপড়া নয়, একে অনুভব করতে হয় রসবোধে । সেইজন্যেই যতই সামান্ত হোক, এর মধ্যে বাক্যসংস্থানের একটা শিল্পকলা শব্দব্যবহারের একটা ‘তেরছ চাহনি রাখতে হয়েছে। স্থবিহিত গৃহিণীপনার মধ্যে লোকে দেখতে পায়,লক্ষ্মীশ্ৰী, বহু উপকরণে বহু অলংকারে তার প্রকাশ নয়। ভাষার কক্ষেও অনতিভূষিত গৃহস্থালি গদ্য হলেও তাকে সম্পূর্ণ গদ্য বলা চলবে না, যেমন চলবে না আপিসঘরের অসঙ্গাকে অন্তঃপুরের সরল শোভনতার সঙ্গে তুলনা করা। আপিসঘরে ছন্দটা প্রত্যক্ষই বর্জিত, অন্যত্র ছদটা নিগৃঢ় মর্মগত, বাহ ভাষায় নয়, অস্তরের ভাবে । আধুনিক পাশ্চাত্য সাহিত্যে গন্তে কাব্য রচনা করেছেন ওয়াল হুইটম্যান । সাধারণ গষ্ঠের সঙ্গে তার প্রভেদ নেই, তবু ভাবের দিক থেকে তাকে কাব্য না বলে