পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী 8"לס নিগড় নয়। স্বতরাং, তার সংযমে সংকীর্ণ করে না, তাহাতে বৈচিত্র্যকে উদঘাটিত করিতে থাকে । সেই কথা মনে রাখিয়া বাংলা কাব্যে ছন্দকে বিচিত্র করিতে সংকোচ বোধ করি নাই । কাব্যে ছন্দের যে কাজ, গানে তালের সেই কাজ ৷ অতএব, ছন্দ যে নিয়মে কবিতায় চলে তাল সেই নিয়মে গানে চলিবে এই ভরসা করিয়া গান বাধিতে চাহিলাম। তাহাতে কী উৎপাত ঘটিল একটা দৃষ্টান্ত দিই। মনে করা যাক, আমার গানের কথাটি এই— কঁাপিছে দেহলতা থরথর, চোখের জলে আঁখি ভরভর । দোদুল তমালেরি বনছায়া তোমার নীলবাসে নিল কণয়া, বাদল-নিশীথেরি ঝরঝর তোমার আঁখি-’পরে ভরভর । যে কথা ছিল তব মনে মনে চমকে অধরের কোণে কোণে । নীরব হিয়া তব দিল ভরি কী মায়া-স্বপনে যে, মরি মরি, নিবিড় কালনের মরমর বাদল-নিশীথের ঝরঝর । এ ছন্দে আমার পাঠকেরা কিছু আপত্তি করিলেন না । তাই সাহস করিয়া ওইটেই ওই ছন্দেই স্বরে গাহিলাম। তখন দেখি, যারা কাব্যের বৈঠকে দিব্য খুশি ছিলেন তারাই গানের বৈঠকে রক্তচক্ষু । তারা বলেন, এ ছন্দের এক অংশে সাত আর-এক অংশে চার, ইহাতে কিছুতেই তাল মেলে না। আমার জবাব এই, তাল যদি না মেলে সেটা তালেরই দোষ, ছন্দটাতে দোষ হয় নাই। কেন তাহ বলি। এই ছন্দ তিন এবং চার মাত্রার যোগে তৈরি । এইজন্যই তোমার নীলবালে এই সাত মাত্রার পর নিল কায়া’ এই চার মাত্রা খাপ খাইল । তিন মাত্রা হইলেও ক্ষতি হইত না। যেমন, ‘তোমার নীলবালে মিলিল । কিন্তু, ইহার মধ্যে ছয় মাত্রা কিছুতেই সইবে না । যেমন, “তোমারি নীলবাসে ধরিল শরীর’। অথচ, প্রথম অংশে যদি ছয়ের ভাগ থাকিত তবে দিব্য চলিত। যেমন, তোমার সুনীল বাসে ধরিল শরীর’ । এ আমি বলিতেছি কানের স্বাভাবিক রুচির কথা । এই কালের ভিতর দিয়া মরমে