পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 о о রবীন্দ্র-রচনাবলী শব্দটা পদ-চার শব্দের বিকার। ইহার এক-একটি পদ এক-একটি বোকের শাসনে চলে । মহাভারতের কথা ৷ অমৃতসমান । কাশীরামদাস কহে । শুনে পুণ্যবান । ‘অমৃতসমান’ ও ‘শুনে পুণ্যবান এই দুই অংশে ছয়টি অক্ষর দেখা যাইতেছে বটে, কিন্তু মাত্রাগণনায় ইহারা আট। ওইখানে লাইন শেষ হয় বলিয়া দুটি মাত্রপরিমাণ জায়গা ফাক থাকে। যাহারা স্বর করিয়া পড়ে তাহারা ‘মান’ এবং ‘বান’ শব্দের আকারটিকে দীর্ঘাকার করিয়া ওই ফাক ভরাইয়া দেয় । এক-একটি বেণকে কয়টি করিয়া মাত্রা আগলাইতেছে তাহা দেখিয়াই ছন্দের বিচার করিতে হয়। নতুবা যদি মোটা করিয়া বলি যে, এক-এক লাইনে চোদটা করিয়া অক্ষর থাকিলে তাহাকে পয়ার বলে তবে নানা ভিন্ন প্রকারের ছন্দকে পয়ার বলিতে হয়। নিম্নলিখিত ছন্দে প্রত্যেক লাইনে চোদটা অক্ষর আছে— 蜴 ফাগুন যামিনী, প্রদীপ জলিছে ঘরে । দখিন-বাতাস মরিছে বুকের পরে। ইহাকে যে পয়ার বলি না তাহার কারণ ইহার এক-একটি বোকের দখলে ছয়টি করিয়া মাত্রা । ইহার ভাগ নীচে লিখিলাম— ফাগুন যামিনী, প্রদীপ জলিছে। ঘরে— । চোদ-অক্ষরী লাইনের আরো দৃষ্টাস্ত আছে— পুরব-মেঘমুখে ৷ পড়েছে রবিরেখা । অরুণ-রথচূড়া। অাধেক গেল দেখা । এখানে স্পষ্টই এক-এক বোকে সাতটি করিয়া মাত্রা। স্বতরাং পয়ারের তুলনায় প্রত্যেক পদে ইহার এক মাত্রা কম । তবেই দেখা যাইতেছে, আট মাত্রার ছন্দকেই পয়ার বলে । আট মাত্রাকে স্থখানা করিয়া চার মাত্রায় ভাগ করা চলে, কিন্তু সেটাতে পয়ারের চাল খাটো করা হয় । বস্তুত লম্বা নিশ্বাসের মন্দগতি চালেই পয়ারের পদমর্যাদা । চার-চার মাত্রায় পা ফেলিয়া পয়ার যখন দুলকি চালে চলে তখন তাহার পায়ে পায়ে মিল থাকে। cययन বাজে তীর, পড়ে বীর ধরণীর পরে। এরূপ ছন্দ হালকা কাজে চলে , ইহা যুক্ত-অক্ষরের ভূরে সয় না এবং সাতকাও বা অষ্টাদশ পর্ব জুড়িয়া লম্বা দৌড় ইহার পক্ষে অসাধ্য। চৌপদীট পয়ারের সহোদর