পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छ्ब्ल 8૨S চিরস্তনের পরিচয় দেবার জন্তে বিশেষ বৈঠকখানায় অলংকৃত আয়োজন করতে হয় না তাকে কাৰ্যশ্রেণীতেই গণ্য করি । অথচ চেহারায় সে গদ্যের মতো হতেও পারে। তার মধ্যে বেস্কর অাছে, প্রতিবাদ অাছে, নানাপ্রকার বিমিশ্রতা আছে, সেইজন্তেই চারিত্রশক্তি আছে। যেমন কর্ণের চরিত্রশক্তি যুধিষ্ঠিরের চেয়ে অনেক বড়ো । অথচ, একরকম শিশুমতি আছে যারা ধর্মরাজের কাহিনী শুনে অশ্রুবিগলিত হয়। রামচন্দ্র নামটার উল্লেখ করলুম না সে কেবল লোকভয়ে, কিন্তু আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আদিকৰি বাল্মীকি রামচন্দ্রকে ভূমিকাপত্তনশ্বরূপে খাড়া করেছিলেন তার অসবর্ণতায় লক্ষ্মণের চরিত্রকে উজ্জল করে আঁকবার জন্তেই, এমন-কি, হনুমানের চরিত্রকেও বাদ দেওয়া চলবে না । কিন্তু, সেই একঘেয়ে ভূমিকাটা অত্যন্ত বেশি রঙফলানো চওড়া বলেই লোকে ওইটের দিকে তাকিয়ে হায়-হায় করে । ভবভূতি তা করেন নি। তিনি রামচন্দ্রের চরিত্রকে আশ্রদ্ধেয় করবার জন্তেই কবিজনোচিত কৌশলে ‘উত্তররামচরিত’ রচনা করেছিলেন । তিনি সীতাকে দাড় করিয়েছেন রামভদ্রের প্রতি প্রবল গজনীরূপে । ওই দেখো, কী কথা বলতে কী কথা এসে পড়ল। আমার বক্তব্য ছিল এই— কাব্যকে বেড়াভাঙা গদ্যের ক্ষেত্রে স্ত্রীস্বাধীনতা দেওয়া যায় যদি, তা হলে সাহিত্যসংসারের আলংকারিক অংশটা হালকা হয়ে তার বৈচিত্র্যের দিক তার চরিত্রের দিক অনেকটা খোলা জায়গা পায় । কাব্য জোরে পা ফেলে চলতে পারে। সেটা সযত্বে নেচে চলার চেয়ে সব সময়ে যে নিন্দনীয় তা নয়। নাচের আসরের বাইরে আছে এই উচুনিচু বিচিত্র বৃহৎ জগং, রূঢ় অথচ মনোহর, সেখানে জোরে চলাটাই মানায় ভালো, কখনো ঘাসের উপর, কখনো কাকরের উপর দিয়ে । রোলো । নাচের কথাটা ৰখন উঠল, ওটাকে সেরে নেওয়া যাক। নাচের জন্ত বিশেষ সময়, বিশেষ কায়দা চাই । চারি দিক বেষ্টন করে আলোটা মালাটা দিয়ে তার চালচিত্র খাড়া না করলে মানানসই হয় না । কিন্তু, এমন মেয়ে দেখা যায় যার সহজ চলনের মধ্যেই বিনা ছন্দের ছন্দ আছে। কবির সেই অনায়াসের চলন দেখেই নানা উপমা খুজে বেড়ায়। সে মেয়ের চলনটাই কাব্য, তাতে নাচের তাল নাই-বা লাগল ; তার সঙ্গে মুদঙ্গের বোল দিতে গেলে বিপত্তি ঘটবে। তখন মুদঙ্গকে দোষ দেব না তার চলনকে ? সেই চলন নদীর ঘাট থেকে আরম্ভ করে রান্নাঘর বাসরঘর পর্যন্ত । তার জন্তে মালমললা বাছাই করে বিশেষ ঠাট বানাতে হয় না। গষ্ঠকাব্যেরও এই দশা । সে নাচে না, সে চলে। সে সহজে চলে বলেই তার গতি সর্বত্র। সেই গতিভঙ্গি আবাধা । ভিড়ের ছোওয়া বাচিয়ে পোশাকি-শাড়ির-প্রান্ত-তুলে ধরা