পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छ्ञान ৪২৩ হঠাৎ-বেঁকে-যাওয়া কথার মধ্যে কোথাও কি নীরবের সরবতা পাওয়া যাচ্ছে না । এইসকল প্রশ্নের উত্তরই হচ্ছে এর সমালোচনা । কালিদাস রঘুবংশের গোড়াতেই বলেছেন, বাক্য এবং অর্থ একত্র সম্পৃক্ত থাকে ; এমন স্থলে বাক্য এবং অর্থাতীতকে একত্র সম্পৃক্ত করার দুঃসাধ্য কাজ হচ্ছে কবির, সেটা গদ্যেই হোক আর পষ্ঠেই হোক তাতে কী এল গেল । రి థా సారి (? অস্তরে যে ভাবটা অনির্বচনীয় তাকে প্রেয়সী নারী প্রকাশ করবে গানে নাচে, এটাকে লিরিক বলে স্বীকার করা হয় । এর ভঙ্গিগুলিকে ছন্দের বন্ধনে বেঁধে দেওয়া হয়েছে ; তারা সেই ছন্দের শাসনে পরস্পরকে যথাযথভাবে মেনে চলে বলেই তাদের স্বনিয়ন্ত্রিত সম্মিলিত গতিতে একটি শক্তির উদ্ভব হয়, লে আমাদের মনকে প্রবল বেগে আঘাত দিয়ে থাকে । এর জন্তে বিশেষ প্রসাধন, আয়োজন, বিশেষ রঙ্গমঞ্চের আবশ্বক ঘটে। সে আপনার একটি স্বাতন্ত্র্য স্বাক্ট করে, একটি দূরত্ব । কিন্তু, একবার সরিয়ে দাও ওই রঙ্গমঞ্চ, জরির-আঁচলা-দেওয়া বেনারলি শাড়ি তোলা থাক পেটিকায়, নাচের বন্ধনে তযুদেহের গতিকে মধুর নিয়মে নাই-বা সংষত করলে— তা হলেই কি রস নষ্ট হল । তা হলেও দেহের সহজ ভঙ্গিতে কাস্তি আপনি জাগে, বাহুর ভাষায় ষে বেদনার ইঙ্গিত ঠিকরে ওঠে সে মুক্ত বলেই ষে নিরর্থক এমন কথা যে বলতে পারে তার রসবোধ অসাড় হয়েছে । সে নাচে না বলেই যে তার চলনে মাধুর্যের অভাব ঘটে কিম্বা সে গান করে না বলেই যে তার কানে-কানে কথার মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনা থাকে না, এ কথা আশ্রদ্ধেয় । বরঞ্চ এই অনিয়ন্ত্রিত কলায় একটি বিশেষ গুণের বিকাশ হয়, তাকে বলব ভাবের স্বচ্ছন্দতা, আপন আস্তরিক সত্যেই তার আপনার পর্যাপ্তি । তার বাহুল্যবর্জিত আত্মনিবেদনে তার সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত কাছের সম্বন্ধ ঘটে। অশোকের গাছে সে আলতা-জাক নৃপুরুশিঞ্চিত পদাঘাত নাই করল । নাহয় কোমরে জাট আঁচল বাধা, বা হাতের কুক্ষিতে ঝুড়ি, ডান হাত দিয়ে মাচা থেকে লাউশাক তুলছে, অষত্ত্বশিথিল খোপা ঝুলে পড়েছে আলগা হয়ে ; সকালের রেীজজড়িত ছায়াপথে হঠাৎ এই দৃশ্বে কোনো তরুণের বুকের মধ্যে যদি ধৰ্ব্ব করে ধাৰা লাগে তবে সেটার্কে কি লিরিকের ধাক্কা বলা চলে না, নাহয় গদ্য-লিরিকই হল।