পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\©ፃ8 রবীন্দ্র-রচনাবলী দাদাঠাকুর। আমি তোমার জায়গা ঠিক করে রেখেছি। পঞ্চক। কোথায় ঠাকুর ? দাদাঠাকুর। ঐ অচলায়তনে । পঞ্চক। আবার অচলায়তনে | আমার কারাদণ্ডের মেয়াদ ফুরোয় নি ? দাদাঠাকুর। কারাগার যা ছিল সে তো আমি ভেঙে ফেলেছি, এখন সেই উপকরণ দিয়ে সেইখানেই তোমাকে মন্দির গেথে তুলতে হবে। পঞ্চক। ঠাকুর, আমি তোমাকে জোড়হাত করে বলছি, আর অামাকে বসিয়ে রাখার কাজে লাগিয়ে না। তোমার ঐ বীরবেশে আমার মন ভুলেছে— তোমাকে এমন মনোহর আর কখনো দেখি নি । দাদাঠাকুর। ভয় নেই পঞ্চক। অচলায়তনে আর সেই শাস্তি দেখতে পাবে না। তার দ্বার ফুটো করে দিয়ে আমি তার মধ্যেই লড়াইয়ের ঝোড়ো হাওয়া এনূে দিয়েছি। নিজের নাসাগ্রভাগের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বসে থাকবার দিন এখন চিরকালের মতো ঘুচিয়ে দিয়েছি। পঞ্চক । কিন্তু অচলায়তনের লোকে যে আমাকে আপন বলে গ্রহণ করবে না প্রভু । দাদাঠাকুর । আমি বলছি তুমি অচলায়তনের লোকের সকলের চেয়ে আপন । পঞ্চক। কিন্তু দাদাঠাকুর, আমি কেবল একলা, একলা, ওরা আমাকে সবাই ঠেলে রেখে দেবে । - দাদাঠাকুর । ওরা তোমাকে গ্রহণ করতে চাচ্ছে না, সেইজন্যেই ওখানে তোমার সব চেয়ে দরকার। ওরা তোমাকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই তুমি ওদের ঠেলতে পারবে না । পঞ্চক। আমাকে কী করতে হবে ? দাদাঠাকুর। ষে যেখানে ছড়িয়ে আছে সবাইকে ডাক দিয়ে আনতে হবে। পঞ্চক। সবাইকে কি কুলোবে ? দাদাঠাকুর । না যদি কুলোয় তা হলে এমনি করে দেয়াল আবার আর-একদিন ভাঙতেই হবে সেই বুঝে গেঁথো— আমার আর কাজ বাড়িয়ে না। পঞ্চক। শোণপাংশুদের— দাদাঠাকুর । ই, ওদেরও ডেকে এনে বসাতে হবে, ওরা একটু বসতে শিখুক । পঞ্চক। ওদের বসিয়ে রাখা ! সর্বনাশ ! তার চেয়ে ওদের ভাঙতে চুরতে দিলে ওর বেশি ঠাণ্ড থাকে। ওরা যে কেবল ছটফট করাকেই মুক্তি মনে করে।