পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ডাকঘর శ్రీపెపి ঠাকুরদা। অমন নবীন চোখ তো আমার নেই তৰু তোমার দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমিও দেখতে পাচ্ছি। অমল। আচ্ছা ফকির, যার ডাকঘর তুমি সেই রাজাকে জান ? ঠাকুরদা। জানি বৈকি। আমি যে তার কাছে রোজ ভিক্ষা নিতে যাই । অমল। সে তো বেশ ! আমি ভালো হয়ে উঠলে আমিও তার কাছে ভিক্ষা নিতে যাব। পারব না যেতে ? ঠাকুরদা। বাবা, তোমার আর ভিক্ষার দরকার হবে না, তিনি তোমাকে যা দেবেন আমনিই দিয়ে দেবেন। অমল । না, না, আমি তার দরজার সামনে পথের ধারে দাড়িয়ে জয় হোক বলে ভিক্ষা চাইব— আমি খঞ্জনি বাজিয়ে নাচব— সে বেশ হবে, না ? ঠাকুরদা। সে খুব ভালো হবে। তোমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলে আমারও পেট ভরে ভিক্ষ মিলবে। তুমি কী ভিক্ষা চাইবে ? অমল । অামি বলব, আমাকে তোমার ডাক-হরকরা করে দাও, আমি অমনি লণ্ঠন হাতে ঘরে ঘরে তোমার চিঠি বিলি করে বেড়াব। জান ফকির, আমাকে একজন বলেছে আমি ভালো হয়ে উঠলে সে আমাকে ভিক্ষা করতে শেখাবে। আমি তার সঙ্গে যেখানে খুশি ভিক্ষা করে বেড়াব। ঠাকুরদা। কে বলে দেখি ? অমল। ছিদাম । ঠাকুরদা। কোন ছিদাম ? অমল । সেই যে অন্ধ খোড়া। সে রোজ আমার জানলার কাছে আসে। ঠিক আমার মতো একজন ছেলে তাকে চাকার গাড়িতে করে ঠেলে ঠেলে নিয়ে বেড়ায়। আমি তাকে বলেছি, আমি ভালো হয়ে উঠলে তাকে ঠেলে ঠেলে নিয়ে বেড়াব। ঠাকুরদা। সে তো বেশ মজা হবে দেখছি। অমল । সেই আমাকে বলেছে কেমন করে ভিক্ষা করতে হয় আমাকে শিখিয়ে দেবে। পিসেমশায়কে আমি বলি ওকে ভিক্ষা দিতে, তিনি বলেন ও মিথ্যা কানা, মিথ্যা খোড়া। আচ্ছা, ও যেন মিথ্যা কানা-ই হল, কিন্তু চোখে দেখতে পায় না— সেটা তো সত্যি । ঠাকুরদা। ঠিক বলেছ বাবা, ওর মধ্যে সত্যি হচ্ছে ঐটুকু যে, ও চোখে দেখতে পায় না— তা ওকে কানা বল আর না-ই বল। তা ও ভিক্ষা পায় না, তবে তোমার কাছে বসে থাকে কী করতে ।