পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তুই বোন 8 S (t তেমনি আনন্দিত হবে। আজ সেই অমিতভাষণের প্রতিবাদ করবে কোন মুখে । চুপ করে মেনে যেতে হল, শুধু তাই নয়, সেদিনই ভোরবেলায় অল্প একটু ষেন সরি আভাস দেখা দিয়েছে শৰ্মিলার এই কল্পনা অনুসারে তাকে কুইনিন খেতে হল দশ গ্রেন, তা ছাড়া তুলসীপাতার রস দিয়ে চা। আপত্তি করবার মুখ ছিল না। কারণ ইতিপূর্বে অনুরূপ অবস্থায় আপত্তি করেছিল, কুইনিন খায় নি, জরও হয়েছিল, এই বৃত্তান্তটি শশাঙ্কের ইতিহাসে অপরিমোচনীয় অক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে । ঘরে আরোগ্য ও আরামের জন্যে শর্মিলার এই যেমন সস্নেহ ব্যগ্রতা, বাইরে সম্মান রক্ষার জন্তে তার সতর্কত তেমনি সতেজ ! একটা দৃষ্টান্ত মনে পড়ছে। একবার বেড়াতে গিয়েছিল নৈনিতালে। আগে থাকতে সমস্ত পথ কামরা ছিল রিজার্ভ-করা । জংশনে এসে গাড়ি বদলিয়ে আহারের সন্ধানে গেছে। ফিরে এসে দেখে উদিপর দুর্জন মূতি ওদের বেদখল করবার উদযোগে প্রবৃত্ত। স্টেশনমাস্টার এসে এক বিশ্ববিশ্রত জেনেরালের নাম করে বললে, কামরাটা তারই, ভুলে অন্ত নাম খাটানো হয়েছে। শশাঙ্ক চক্ষু বিস্ফারিত করে সসন্ত্রমে অন্যত্র যাবার উপক্রম করছে, হেনকালে শমিল গাড়িতে উঠে দরজা আগলিয়ে বললে, “দেখতে চাই কে আমাকে নামায়। ডেকে আনো তোমার জেনেরালকে (” শশাঙ্ক তখনো সরকারি কর্মচারী, উপরওঅালার জ্ঞাতিগোত্রকে যথোচিত পাশ কাটিয়ে নিরাপদ পথে চলতে সে অভ্যস্ত । সে ব্যস্ত হয়ে যত বলে, “আহা, কাজ কী, আরো তো গাড়ি আছে”— শৰ্মিলা কানই দেয় না! অবশেষে জেনেরালসাহেব রিফ্রেশমেন্ট রুমে আহার সমাধা করে চুরুট মুখে দূর থেকে স্ত্রীমূতির উগ্রতা দেখে গেল হটে । শশাঙ্ক স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে, “জান কতবড়ো লোকটা !” স্ত্রী বললে, “জানার গরজ নেই। যে-গাড়িটা আমাদের, সে-গাড়িতে ও তোমার চেয়ে বড়ো নয়।” শশাঙ্ক প্রশ্ন করলে, “যদি অপমান করত ?” শৰ্মিল জবাব দিলে, “তুমি আছ কী করতে।” শশাঙ্ক শিবপুরে পাস-করা এঞ্জিনিয়ার। ঘরের জীবনযাত্রায় শশাঙ্কের যতই টিলেমি থাক চাকরির কাজে সে পাকা। প্রধান কারণ, কর্মস্থানে যে তুঙ্গী গ্রহের নির্মম দৃষ্টি সে হচ্ছে ষাকে চলতি ভাষায় বলে বড়োসাহেব। স্ত্রীগ্রহ সে নয়। শশাঙ্ক ডিষ্ট্রিক্ট এঞ্জিনিয়ারি পদে যখন অ্যাকটিনি করছে এমন সময় আসন্ন উন্নতির মোড় ফিরে গেল উলটো দিকে। যোগ্যতা ডিঙিয়ে কাচা অভিজ্ঞতা সত্বেও যে ইংরেজ যুবক বিরল গুদ্ধরেখা নিয়ে তার আসন দখল করলে কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্তার সম্পর্ক ও স্বপারিশ বহন করে তার এই অভাবনীয় আবির্ভাব।