পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তুই বোন 8:ፃ উৰ্মি পুলকিত হয়ে ভাবলে, অনেক যুবক ওদের চায়ের টেবিলে ওদের টেনিস কোর্টে এসেছে, কিন্তু ভাববার যোগ্য কথা তারা কখনো বলে না, আর-কেউ বললে হাই তোলে। বস্তুত নিরতিশয় গভীরভাবে কথা বলবার একটা ধরন আছে নীরদের । সে যাই বলুক উর্মির মনে হয় এর মধ্যে একটা আশ্চর্য তাৎপর্য আছে। অত্যন্ত বেশি ইনটেলেকচুয়াল। | রাজারাম ওঁর বড়ো জামাইকেও ডাকলেন। মাঝে মাঝে নিমন্ত্রণ উপলক্ষে চেষ্টা করলেন পরস্পরকে ভালো করে আলাপ করিয়ে দেবার । শশাঙ্ক শমিলাকে বলে, *ছেলেটা অসহ জেঠা ; ও মনে করে আমরা সবাই ওর ছাত্র, তাও পড়ে আছি শেষ বেঞ্চির শেষ কোণে ।” শমিলা হেসে বলে, “ওটা তোমার জেলাসি। কেন, আমার তো ওকে বেশ লাগে।” শশাঙ্ক বলে, “ছোটাে বোনের সঙ্গে ঠাই বদল করলে কেমন হয়।” 碑 শৰ্মিলা বলে, “তা হলে তুমি হয়তো ইপি ছেড়ে বাচ, আমার কথা আলাদা।” শশাঙ্কের প্রতি নীরদেরও যে ভ্রাতৃভাব বেড়ে উঠছে তা মনে হয় না। মনে মনে বলে, ‘ও তো মজুর, ও কি বৈজ্ঞানিক। হাত আছে মাথাটা কই ।” শশাঙ্ক নীরদকে নিয়ে তার খালীকে প্রায় ঠাট্টা করে। বলে, “এবার পুরোনো নাম বদলাবার দিন এল ।” “ইংরেজি মতে ?”

  • না, বিশুদ্ধ সংস্কৃত মতে ।”

“নতুন নামটা শুনি।” “বিদ্যুৎলতা । নীরদের পছন্দ হবে । ল্যাবরেটরিতে ঐ পদার্থ টার সঙ্গে পরিচয় আছে, এবার ঘরে পড়বে বাধা ।” মনে মনে বলে, ‘সত্যি ঐ নামটাই একে ঠিক মানায় বটে। ভিতরে ভিতরে একটা খোচা লাগে। ‘হায় রে, এতবড়ো প্রিগটার হাতে পড়বে এমন মেয়ে। কার হাতে পড়লে যে শশাঙ্কের রুচিতে ঠিক সন্তোষজনক এবং সান্থনাজনক হতে পারত, বলা শক্ত । অল্পদিনের মধ্যে রাজারামের মৃত্যু হল। উর্মির ভাবী স্বত্বাধিকারী নীরদনাথ একাগ্রমনে তার পরিণতি-সাধনের ভার নিলে । উমিমালা যতটা দেখতে ভালো তার চেয়েও তাকে দেখায় ভালো। তার চঞ্চল