পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দুই বোন Jr 8Hම් উমি বললে, “আপনি কেন এত বেশি উদবিগ্ন হচ্ছেন ?” *কেন হচ্ছি শুনবে ? রাগ করবে না ?” *সত্য কথা শোনবার শক্তি আপনার কাছ থেকেই পেয়েছি । জানি সহজ নয়, তবু সহ করতে পারি।” “তবে বলি শোনো । তোমার স্বভাবের সঙ্গে শশাঙ্কবাবুর স্বভাবের একটা মিল আছে, এ আমি লক্ষ করে দেখেছি। তার মনটা একেবারে হালকা। সেইটেই তোমাকে ভালো লাগে, ঠিক কিনা বলে।” উমি ভাবে, লোকটা সর্বজ্ঞ নাকি । ভগ্নীপতিকে ওর খুব ভালো লাগে সন্দেহ নেই। তার প্রধান কারণ, শশাঙ্ক হে হে করে হাসতে পারে, উৎপাত করতে জানে, ঠাট্টা করে। আর ঠিকটি জানে উর্মি কোন ফুল ভালোবাসে অার কোন রঙের শাড়ি। উৰ্মি বললে, “ই, আমার ভালো লাগে সে কথা সত্যি।” l নীরদ বললে, “শৰ্মিলাদিদির ভালোবাসা স্নিগ্ধগম্ভীর, তার সেবা যেন একটা পুণ্যকর্ম, কখনো কর্তব্য থেকে ছুটি নেন না । তারই প্রভাবে শশাঙ্কবাবু একমনে কাজ করতে শিখেছেন। কিন্তু যেদিন তুমি ভবানীপুরে যাও সেই দিনই ওঁর যেন মুখোশ খসে পড়ে, তোমার সঙ্গে ঝুটোপুটি বেঁধে যায়, চুলের কাটা তুলে নিয়ে খোপা এলিয়ে দেন, হাতে তোমার পড়বার বই দেখলে আলমারির মাথার উপর রাখেন তুলে। টেনিস খেলবার শখ হঠাৎ প্রবল হয়ে ওঠে, হাতে কাজ থাকলেও।” উমিকে মনে মনে মানতেই হল যে, শশাঙ্কদা এইরকম দৌরাত্ম্য করেন বলেই তাকে ওর এত ভালো লাগে। ওর নিজের ছেলেমাকুষি তার কাছে এলে ঢেউ খেলিয়ে ওঠে। সেও তার পরে কম অত্যাচার করে না। দিদি ওদের দুজনের এই দুরন্তপন। দেখে তার শাস্ত স্নিগ্ধ হাসি হাসেন। কখনো বা মৃদু তিরস্কারও করেন, কিন্তু সেটা তিরস্কারের ভান । صةs=خ নীরদ উপসংহারে বললে, “যেখানে তোমার নিজের স্বভাব প্রশ্ৰয় না পায় সেইখানেই তোমার থাকা চাই। আমি কাছে থাকলে ভাবনা থাকত না, কেনন। আমার স্বভাব একেবারে তোমার বিপরীত । তোমার মন রক্ষে করতে গিয়ে তোমার মনকে মাটি করা, এ আমার দ্বার। কখনোই হতে পারত না।” . উৰ্মি মাথা নিচু করে বললে, “আপনার কথা আমি সর্বদাই স্মরণ রাখব।” নীরদ বললে, “আমি কতকগুলো বই তোমার জন্তে রেখে যাচ্ছি। তার যে-সব চ্যাপ্টারে দাগ দিয়েছি সেইগুলো বিশেষ করে পোড়ো, এর পরে কাজে লাগবে ।” հ-3 Տ ՀԵ