পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তুই বোন 8©ፃ এই সময়ে শথিলার রোগটা নিয়ে ভাবনা ধরিয়ে দিয়েছে। ভাইয়ের কথা মনে পড়িয়ে ভয় লাগিয়ে দেয় । নানা ভাক্তার লাগল নানা দিক থেকে ব্যাধির অাবাসগুহাটা খুজে বের করতে। শৰ্মিলা ক্লাস্ত হাসি হেসে বললে, “সি. আই. ডি.দের হাতে অপরাধী বাবে ফসকে, খোচ খেয়ে মরবে নিরপরাধ ।” শশাঙ্ক চিস্তিতমুখে বললে, “দেহটার খানাতল্লাশি চলুক শাস্ত্ৰমতেই, কিন্তু খোচাটা কিছুতেই নয়।” এই সময়টাতেই শশাঙ্কর হাতে দুটো ভারী কাজ এসেছিল। একটা গঙ্গার ধারে পাটকলে । আর-একটা টালিগঞ্জের দিকে, মীরপুরের জমিদারের নূতন বাগানবাড়িতে। পাটকলের কুলিবস্তির কাজটা শেষ করে দেবার মেয়াদ ছিল তিন মাসের। গোটাকতক টিউবওয়েলের কাজ ছিল নানা জায়গায়। শশাঙ্কর একটুও ফুরস্থত ছিল না। শৰ্মিলার ব্যামোট নিয়ে প্রায় তাকে আটকা পড়তে হয়, অথচ উৎকণ্ঠ থাকে কাজের জন্তে । এত দিন ওদের বিবাহ হয়েছে, কিন্তু এমন কোনো ব্যামো শমিলার হয় নি যা নিয়ে শশাঙ্ককে কখনো বিশেষ করে ভাবতে হয়েছে। তাই এবারকার এই রোগটার উদবেগে ছেলেমানুষের মতো ছট্‌ফট্‌ করছে ওর মন । কাজ কামাই করে ঘুরে ফিরে বিছানার কাছে নিরুপায়ভাবে এসে বসে। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,জিজ্ঞাসা করে, কেমন আছ ? তখনই শৰ্মিলা উত্তর দেয়, ‘তুমি মিথ্যে ভেবে না, আমি ভালোই আছি। সেটা বিশ্বাস্ত নয়, কিন্তু বিশ্বাস করতে একান্ত ইচ্ছা বলেই শশাঙ্ক অবিলম্বে বিশ্বাস করে ছুটি পায় । শশাঙ্ক বললে, “ঢেঙ্কানলের রাজার একটা বড়ো কাজ আমার হাতে এসেছে। প্ল্যানটা নিয়ে দেওয়ানের সঙ্গে আলাপ করতে হবে। যত শীঘ্ৰ পারি ফিরে আসব ডাক্তার আসবার অাগেই ।” শৰ্মিলা অকুযোগ করে বললে, “আমার মাথার দিব্যি রইল, তাড়াতাড়ি করে কাজ নষ্ট করতে পারবে না । বুঝতে পারছি ওদের দেশে তোমার যাবার দরকার অাছে। নিশ্চয় যেয়ো, না গেলে আমি ভালো থাকব না। আমাকে দেখবার লোক ঢের আছে ।” প্রকাগু একটা ঐশ্বর্য গড়ে তোলবার সংকল্প দিন-রাত জাগছে শশাঙ্কের মনে । তার আকর্ষণ ঐশ্বর্ষে নয়, বড়োত্বে । বড়ো কিছুকে গড়ে তোলাতেই পুরুষের দায়িত্ব। অর্থজিনিসটাকে তুচ্ছ বলে অবজ্ঞা করা চলে তখনই যখন তাতে দিনপাত হয় মাত্র। যখন তার চূড়াকে সমুচ্চ করে তোলা যায় তখনই সর্বসাধারণে তাকে শ্রদ্ধা করে। উপকার পায় বলে নয়, তার বড়ো দেখাটাতেই চিত্তস্কৃতি। শৰ্মিলার শিয়রে বসে