পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


bew রবীন্দ্র-রচনাবলী չ শশাঙ্কর মনে ৰখন উজবেগ চলছে সেই মুহূর্তেই সে না ভেবে থাকতে পারে না তার কাজের স্বটিতে অনিটের আশঙ্কা ঘটছে কোনখানে। শৰ্মিলা জানে শশাঙ্কের এই ভাবনা কৃপণের ভাবনা নয়, নিজের অবস্থার নিম্নতল হতে জয়স্তম্ভ উর্ধের্ব গেঁথে তোলবার জন্তে পুরুষকারের ভাবনা। শশাঙ্কের এই গৌরবে শৰ্মিলা গৌরবান্বিত । তাই, স্বামী ষে ওর রোগের সেবা নিয়ে কাজে ঢ়িল দেবে এ তার পক্ষে মুখের হলেও ভালোই লাগে না । ওকে বারবার ফিরে পাঠায় তার কাজে । এ দিকে নিজের কর্তব্য নিয়ে শৰ্মিলার উৎকণ্ঠার সীমা নেই। সে রইল বিছানায় পড়ে, ঠাকুর-চাকররা কী কাগু করছে কে জানে। মনে সন্দেহ নেই ষে রান্নায় ঘি দিচ্ছে খারাপ, নাবার ঘরে যথাসময়ে গরম জল দিতে ভুলেছে, বিছানার চাদর বদল করা হয় নি, নর্দমাগুলোতে মেথরের বীট নিয়মিত পড়ছে না। ও দিকে ধোবার বাড়ির কাপড় ফর্দ মিলিয়ে বুঝে না নিলে কিরকম উলটপালটা হয় সে তো জানা আছে। , থাকতে পারে না, লুকিয়ে বিছানা ছেড়ে তদন্ত করতে যায়, বেদনা বেড়ে ওঠে, জর যায় চড়ে, ডাক্তার ভেবে পায় না এ কী হল ! অবশেষে উমিমালাকে তার দিদি ডেকে পাঠালে। বললে, “কিছুদিন তোর কলেজ থাক, আমার সংসারটাকে রক্ষা কর বোন। নইলে নিশ্চিন্ত হয়ে মরতে পারছি নে ৷” এই ইতিহাসটা যারা পড়ছেন এই জায়গাটাতে এসে মুচকে হেসে বলবেন বুঝেছি। বুঝতে অত্যন্ত বেশি বুদ্ধির দরকার হয় না। যা ঘটবার তাই ঘটে, আর তাই যথেষ্ট। এমনও মনে করবার হেতু নেই ভাগ্যের খেলা চলবে তাসের কাগজ গোপন করে শর্মিলারই চোখে ধুলো দিয়ে। "দিদির সেবা করতে চলেছি, বলে উমির মনে খুব একটা উৎসাহ হল। এই কর্তব্যের খাতিরে অন্ত সমস্ত কাজকে সরিয়ে রাখতেই হবে। উপায় নেই। তা ছাড়া এই শুশ্ৰুষার কাজটা ওর ভাবীকালের ডাক্তারি কাজেরই সংলগ্ন, এ তর্কও তার মনে এসেছে। ঘটা করে একটা চামড়া-বাধানে নোটবই নিলে। তার মধ্যে রোগের দৈনিক জোয়ার-ভাটার পরিমাণটাকে রেখাঙ্কিত করবার ছক কাটা আছে। ডাক্তার পাছে অনভিজ্ঞ বলে অবজ্ঞা করে এইজন্যে স্থির করলে দিদির রোগ সম্বন্ধে যেখানে যা পাওয়া বায় পড়ে নেবে। ওর এম. এসসি. পরীক্ষার বিষয় শারীরতত্ত্ব, এইজন্তে রোগতত্বের পারিভাষিক বুঝতে ওর কষ্ট হবে না। অর্থাৎ, দিদির সেবার উপলক্ষে ওর কর্তব্যস্থত্র ষে ছিন্ন হবে না, বরঞ্চ আরো বেশি একান্তমনে কঠিনতর চেষ্টায় তারই অনুসরণ করা হবে, এ কথাটা মনে সে নিশ্চিত করে নিয়ে ওর পড়বার বই আর খাতাপত্র ব্যাগে পূরে ভবানীপুরের বাড়িতে এসে উপস্থিত হল। দিদির ব্যামোটা নিয়ে রোগতত্ত্ব সম্বন্ধে মোট