পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছুই বোন । 8\9כ বইটা নাড়াচাড়া করবার স্থযোগ ঘটল না। কেননা বিশেষজ্ঞেরাও রোগের সংজ্ঞা নির্ণয় করতে পারলে না। উৰ্মি ভাবলে, সে শাসনকর্তার কাজ পেয়েছে। তাই সে গম্ভীরমুখে দিদিকে বললে, “ডাক্তারের কথা যাতে খাটে তাই দেখবার ভার আমার উপর, অামার কথা কিন্তু মেনে চলতে হবে আমি তোমাকে বলে রাখছি।” k দিদি ওর দায়িত্বের আড়ম্বর দেখে হেসে বললে, “তাই তো, হঠাৎ এত গম্ভীর হতে শিখলে কোন গুরুর কাছে। নতুন দীক্ষা বলেই এত বেশি উৎসাহ । আমারই কথা মেনে চলবি বলেই তোকে আমি ডেকেছি। তোর হাসপাতাল তো এখনো তৈরি হয় নি, আমার ঘরকন্ন তৈরি হয়েই আছে। আপাতত সেই ভারটা নে, তোর দিদি একটু ছুটি পাক।” রোগশয্যার কাছ থেকে উর্মিকে জোর করেই দিদি সরিয়ে দিলে। আজ দিদির গৃহরাজ্যে প্রতিনিধিপদ ওর। সেখানে অরাজকতা ঘটছে, আশু তার প্রতিবিধান চাই। এ সংসারের সর্বোচ্চ শিখরে একটিমাত্র যে পুরুষ বিরাজ করছেন তার সেবায় সামান্য কোনো ক্রটি না হয়, এই মহৎ উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ ত্যাগস্বীকার এই ঘরের ছোটো বড়ো সমস্ত অধিবাসীর একটিমাত্র সাধনার বিষয় । মানুষটি নিরতিশয় নিরুপায় এবং দেহযাত্রানির্বাহে শোচনীয়ভাবে অকৰ্মণ্য, এই সংস্কার কোনোমতেই শমিলার মন থেকে ঘূচতে চায় না। হাসিও পায়, অথচ মনটা স্নেহসিক্ত হয়ে ওঠে, যখন দেখে চুরটের আগুনে ভদ্রলোকের আস্তিন খানিকটা পুড়েছে, অথচ লক্ষ্যই নেই। ভোরবেলায় মুখ ধুয়ে শোবার ঘরের কোণের কলটা খুলে রেখে এঞ্জিনিয়র কাজের তাড়ায় দৌড় দিয়েছে বাইরে, ফিরে এসে দেখে মেজে জলে থই-থই করছে, নষ্ট হয়ে গেল কাপেটট । এই জায়গায় কলটা বসাবার সময়ে গোড়াতেই আপত্তি করেছিল শৰ্মিলা। জানত এই পুরুষটির হাতে বিছানার অদূরে ঐ কোণাটাতে প্রতিদিন জলে-স্থলে একটা পন্ধিল অনাস্থষ্টি বাধবে । কিন্তু মস্ত এঞ্জিনিয়র, বৈজ্ঞানিক সুবিধার দোহাই দিয়ে যত-রকম অসুবিধাকে জটিল করে তুলতেই ওর উৎসাহ । খামক কী মাথায় এল একবার, নিজের সম্পূর্ণ ওরিজিনাল প্ল্যানে একটা স্টোভ বানিয়ে বসল। তার এ দিকে দরজা, ও দিকে দরজা ; এ দিকে একটা চোঙ, ও দিকে আর-একটা ; এক দিকে আগুনের অপব্যয়হীন উদ্দীপন, আর-এক দিকে ঢালু পথে ছাইয়ের নিঃশেষে অধঃপতন— তার পরে সেঁকবার ভাজবার সিদ্ধ-করবার জল-গরমের নানা আকারের খোপখাপ, গুহাগহবর, কলকৌশল । কলটাকে উৎসাহের ভঙ্গিতে ও ভাষাতেই মেনে নিতে হয়েছিল, ব্যবহারের জন্তে নয়, শান্তি ও সদভাব -রক্ষার জন্যে। প্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের এই খেলা ! বাধা দিলে অনর্থ বাধে,