পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী কতভত্ত বলেছিন্থ “ভুলিব না”, যবে তব ছল-ছল জাখি নীরবে চাহিল মুখে । ক্ষমা ক’রে যদি ভুলে থাকি । সে যে বহুদিন হল । সেদিনের চুম্বনের পরে কত নববসন্তের মাধবী মঞ্চরী থরে থরে শুকায়ে পড়িয়া গেছে ; মধ্যাহ্নের কপোতকাকলি তারি পরে ক্লাস্ত ঘুম চাপা দিয়ে এল গেল চলি কতদিন ফিরে ফিরে । তব কালো নয়নের দিঠি মোর প্রাণে লিখেছিল প্রথম প্রেমের সেই চিঠি লজ্জাভয়ে ; তোমার সে হৃদয়ের স্বাক্ষরের পরে চঞ্চল আলোকছায়া কত কাল প্রহরে প্রহরে বুলায়ে গিয়েছে তুলি, কত সন্ধ্যা দিয়ে গেছে একে তারি পরে সোনার বিস্মৃতি, কত রাত্রি গেছে রেখে অস্পষ্ট রেখার জালে আপনার স্বপনলিখন, তাহারে আচ্ছন্ন করি । প্রতিমুহূর্তটি প্রতিক্ষণ বাকাচোরা নানা চিত্রে চিন্তাহীন বালকের প্রায় আপনার স্মৃতিলিপি চিত্তপটে এ কে একে যায়, লুপ্ত করি পরস্পরে বিস্মৃতির জাল দেয় বুনে । সেদিনের ফান্তনের বাণী যদি আজি এ ফাঙ্কনে ভুলে থাকি, বেদনার দীপ হতে কখন নীরবে অগ্নিশিখা নিবে গিয়ে থাকে যদি, ক্ষমা ক’রে তবে । তবু জানি, একদিন তুমি দেখা দিয়েছিলে বলে গানের ফসল মোর এ জীবনে উঠেছিল ফলে, আজো নাই শেষ ; রবির আলোক হতে একদিন ধ্বনিয়া তুলেছে তার মর্মবাণী, বাজায়েছে বীন তোমার আঁখির আলো । তোমার পরশ নাহি আর, কিন্তু কী পরশমণি রেখে গেছ আস্তরে অামার,— বিশ্বের অমৃতছবি আজিও তো দেখা দেয় মোরে ক্ষণে ক্ষণে,—অকারণ আনন্দের স্বধাপাত্র ভ’রে