পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পূরবী তৰু ভাবি, বাই কেন হ’ক অদৃষ্ট মোর ভালো, আমন স্বরে ভাকে আমার মানিক আমার অালো । কপাল মন্দ হলে টানে আরো নিচের তলায়, হৃদয়টি ওর হ’ক না কঠোর, মিষ্টি তে ওর গলায় । আলো যেমন চমকে বেড়ায় অ আমলকীর ঐ গাছে তিন বছরের প্রিয়া আমার দূরের থেকে নাচে । লুকিয়ে কখন বিলিয়ে গেছে বনের হিল্লোল অঙ্গে উহার বেণুশাখার তিন ফাগুনের দোল । তবু ক্ষণিক হেলাভরে হৃদয় করি লুট শেষ না হতেই নাচের পালা কোনখানে দেয় ছুট। অামি ভাবি এই বা কী কম, প্রাণে তো ঢেউ তোলে, ওর মনেতে ঘা হয় তা হ’ক আমার তো মন দোলে । হৃদয় না হয় নাই বা পেলাম মাধুরী পাই নাচে, . ভাবের অভাব রইল না হয়, ছন্দটা তো আছে । বন্দী হতে চাই ষে কোমল ঐ বাহুবন্ধনে, তিন বছরের প্রিয়ার আমার নাই সে খেয়াল মনে । সোনার প্রভাত দিয়েছে ওর সর্বদেহ ছুয়ে শিউলি ফুলের তিন শরতের পরশ দিয়ে ধুয়ে বুঝতে নারি অামার বেলায় কেন টানাটানি । ক্ষয় নাহি যার সেই স্বধা নয় দিত একটুখানি । তবু ভাবি বিধি আমায় নিতান্ত নয় বাম, মাঝে মাঝে দেয় সে দেখা তারি কি কম দাম ? পরশ না পাই, হরষ পাব চোখের চাওয়া চেয়ে, রূপের ঝোরা বইবে আমার বুকের পাহাড় বেয়ে । কবি বলে লোকসমাজে আছে তো মোৱ ঠাই, তিন বছরের প্রিয়ার কাছে কবির আদর নাই । জানে না যে ছন্দে আমার পাতি নাচের ফাদ, দোলার টানে বাধন মানে দূর আকাশের চাদ । Sశి)