পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মুক্তধারা । 하) ১ । পাগলা! আমরা তে যাচ্ছি উত্তর-ভৈরবের মন্দিরে, সেখানে তৃষ্ণ দানবী কোথায় ? বটু। খবর পাও নি ? ভৈরবকে যে আজ ওরা মন্দ্রির থেকে বিদায় করতে চলেছে । তৃষ্ণ বসবে বেঙ্গীতে । ২ । চুপ চুপ পাগলা । এসব কথা শুনলে উত্তরকুটের মাহুষ তোকে কুটে ফেলবে। বটু। তারা তো আমার গায়ে ধুলো দিচ্ছে, ছেলেরা মারছে চেলা। সবাই বলে তোর নাতি দুটো প্রাণ দিয়েছে সে তাদের সৌভাগ্য । ১ । তারা তো মিথ্যে বলে না । n বটু। বলে না মিথ্যে ? প্রাণের বদলে প্রাণ যদি না মেলে, মৃত্যু দিয়ে যদি মৃত্যুকেই ডাকা হয়, তবে ভৈরব এত বড়ে ক্ষতি সইবেন কেন ? সাবধান, বাবা, সাবধান, যেয়ো না ও পথে । [ প্ৰস্থান ২ । দেখো, দাদা, আমার গায়ে কিন্তু কাটা দিয়ে উঠছে । 疊 ১ । রঙ্কু, তুই বেজায় ভীতু। চল চল । [সকলের প্রস্থান যুবরাজ অভিজিৎ ও রাজকুমার সঞ্জয়ের প্রবেশ সঞ্জয় । বুঝতে পারছি নে, যুবরাজ, রাজবাড়ি ছেড়ে কেন বেরিয়ে যাচ্ছ ? অভিজিং। সব কথা তুমি বুঝবে না। আমার জীবনের স্রোত রাজবাড়ির পাথর ডিঙিয়ে চলে যাবে এই কথাটা কানে নিয়েই পৃথিবীতে এসেছি । সঞ্জয় । কিছু দিন থেকেই তোমাকে উতলা দেখছি। আমাদের সঙ্গে তুমি যে বাধনে বাধা সেটা তোমার মনের মধ্যে আলগা হয়ে আসছিল। আজ কি সেটা ছিড়ল । অভিজিৎ । ওই দেখো সঞ্জয়, গৌরীশিখরের উপর স্বর্যাস্তের মূতি। কোন আগুনের পাখি মেঘের ডানা মেলে রাত্রির দিকে উড়ে চলেছে । আমার এই পথযাত্রার ছবি অস্তসূর্য আকাশে একে দিলে । সঞ্জয় । দেখছ না, যুবরাজ, ওই যন্ত্রের চুড়াটা স্বৰ্ধান্ত-মেঘের বুক ফুড়ে দাড়িয়ে আছে । যেন উড়ন্ত পাখির বুকে বাণ বিধেছে, সে তার ডানা ঝুলিয়ে রাত্রির গহবরের দিকে পড়ে যাচ্ছে। আমার এ ভালো লাগছে না । এখন বিশ্রামের সময় এল। চলো, যুবরাজ, রাজবাড়িতে । .. অভিজিৎ। যেখানে বাধা সেখানে কি বিশ্রাম আছে সঞ্জয়। রাজবাড়িতে ষে তোমার বাধা, এতদিন পরে লে কথা তুমি কি করে বুঝলে ? •