পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ । ૨૯૭ ইতিমধ্যে কী হইল আমি কিছুই জানিতে পারি নাই। কিছুকাল পরে একদিন সন্ধ্যাবেলায় আমারই সোপানে সন্ন্যাসীর সহিত কুস্কমের সাক্ষাৎ হইল। * * কুহুম মুখ নত করিয়া কহিল, “প্ৰভু, আমাকে কি ভাকিয়া পাঠাইয়াছেন।” । *হা তোমাকে দেখিতে পাই না কেন । আজকাল দেবসেবায় তোমার এত অবহেলা কেন।” কুহুম চুপ করিয়া রহিল । “আমার কাছে তোমার মনের কথা প্রকাশ করিয়া বলে ।” ' * কুসুম ঈষৎ মুখ ফিরাইয়া কহিল, “প্রভু, আমি পাপীয়লী সেইজন্যই এই অবহেলা ।” সন্ন্যাসী অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ স্বরে বলিলেন, “কুস্কম, তোমার হৃদয়ে অশাস্তি উপস্থিত হইয়াছে, আমি তাহা বুঝিতে পারিয়াছি।” কুসুম যেন চমকিয়া উঠিল—সে হয়তো মনে করিল, সন্ন্যাসী কতটা না জানি বুৰিয়াছেন। তাহার চোখ অল্পে অল্পে জলে ভরিয়া আসিল, সে সেইখানে বসিয়া পড়িল ; মুখে আঁচল ঢাকিয়া সোপানে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে বসিয়া কাদিতে লাগিল। সন্ন্যাসী কিছুদূরে সরিয়া গিয়া কহিলেন, “তোমার অশাস্তির কথা আমাকে সমস্ত ব্যক্ত করিয়া বলো , আমি তোমাকে শাস্তির পথ দেখাইয়া দিব।” কুহুম অটল ভক্তির স্বরে কহিল, কিন্তু মাঝে মাঝে থামিল, মাঝে মাঝে কথা বাধিয়া গেল—“আপনি আদেশ করেন তো অবশু বলিব । তবে, আমি ভালো করিয়া বলিতে পারিব না, কিন্তু আপনি বোধ করি মনে মনে সকলই জানিতেছেন। প্রভু, আমি একজনকে দেবতার মতো ভক্তি করিতাম, আমি তাহাকে পূজা করিতাম, সেই আনন্দে আমার হৃদয় পরিপূর্ণ হইয়া ছিল। কিন্তু একদিন রাত্রে স্বপ্নে দেখিলাম যেন তিনি আমার হৃদয়ের স্বামী, কোথায় যেন একটি বকুলবনে বসিয়া তাহার বামহস্তে আমার দক্ষিণ হস্ত লইয়া আমাকে তিনি প্রেমের কথা বলিতেছেন । এ ঘটনা আমার কিছুই অসম্ভব কিছুই আশ্চর্ষ মনে হইল না। স্বপ্ন ভাঙিয়া গেল, তবু স্বপ্নের ঘোর ভাঙিল না। তাহার পরদিন যখন তাহাকে দেখিলাম আর পূর্বের মতো দেখিলাম না। মনে সেই স্বপ্নের ছবিই উদয় হইতে লাগিল। ভয়ে দূরে পলাইলাম, কিন্তু সে ছবি আমার সঙ্গে সঙ্গে রহিল। সেই অবধি আমার হৃদয়ের অশাস্তি আর দূর হয় না—আমার সমস্ত অন্ধকার হইয়া গেছে।” যখন কুঙ্কম অশ্র মুছিয়া মুছিয়া এই কথাগুলি বলিতেছিল, তখন আমি অনুভব རྒྱུ་ཅུང་ཁག་༢ ཨ་མ་ ཐང་ག ཐ༥ ཉཁ་ পদতল দিয়া আমার পাষাণ চাপিয়া |